ঢাকা, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৮ ফাল্গুন ১৪৩২, ০৩ রমজান ১৪৪৭

রবির মুনাফা বেড়েছে ৩৩ শতাংশের বেশি, নগদ লভ্যাংশ দেবে সাড়ে ১৭ শতাংশ

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৫:০৬, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৫:০৬, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রবির মুনাফা বেড়েছে ৩৩ শতাংশের বেশি, নগদ লভ্যাংশ দেবে সাড়ে ১৭ শতাংশ

তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি রবি আজিয়াটা পিএলসির সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে মুনাফা বেড়েছে ৩৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। গত বছর শেষে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩৮ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে রবির মুনাফা ছিল ৭০২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার রবি আজিয়াটার পরিচালনা পর্ষদের সভায় গত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। পর্ষদ সভা শেষে এক বিজ্ঞপ্তিতে রবির পক্ষ থেকে মুনাফার এই তথ্য জানানো হয়।

আলোচ্য হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য সাড়ে ১৭ দশমিক শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটির পর্ষদ। তাতে প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে একেকজন বিনিয়োগকারী পাবেন ১ টাকা ৭৫ পয়সা করে লভ্যাংশ। তালিকাভুক্তির পর গত বছরের জন্যই সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি।

তথ্যানুসারে, সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে রবি আজিয়াটার শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৭৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৩৪ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৩৪ পয়সায়।

এদিকে ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নেয়ার জন্য আগামী ২২ এপ্রিল বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বান করেছে কোম্পানিটির পর্ষদ। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ মার্চ।

২০২৫ সালের জন্য কোম্পানিটি যে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, সেই লভ্যাংশবাবদ কোম্পানিটিকে বিতরণ করতে হবে প্রায় ৯১৭ কোটি টাকা। যার মধ্যে ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পাবেন প্রায় ৬৯ কোটি টাকা। কারণ, কোম্পানিটির শেয়ারের সাড়ে ৭ শতাংশের মালিকানা রয়েছে তাঁদের হাতে। কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা পাবেন প্রায় ৮২৫ কোটি টাকা; কারণ, তাঁদের হাতে রয়েছে ৯০ শতাংশ শেয়ার। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা পাবেন ২৩ কোটি টাকা, তাঁদের হাতে রয়েছে কোম্পানিটির আড়াই শতাংশ শেয়ার।

২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে রবি আজিয়াটার ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬১ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৮ পয়সায়।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে রবি আজিয়াটার ইপিএস ৬১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৫ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৭৬ পয়সায়।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে রবি আজিয়াটার ইপিএস হয়েছে ৩৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৪ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৮২ পয়সায়।

রবি আজিয়াটার সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘ডাবল এ প্লাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি ওয়ান’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।

২০২০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রবি আজিয়াটার অনুমোদিত মূলধন ৬ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৫ হাজার ২৩৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ৬২২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৫২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার ৮৯৫। এর ৯০ শতাংশই রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২ দশমিক ৫০ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

এএইচ

ব্যাংকার প্রতিবেদন

আরও পড়ুন