ঢাকা, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৮ ফাল্গুন ১৪৩২, ০৩ রমজান ১৪৪৭

এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পেছাতে জাতিসংঘকে চিঠি নতুন সরকারের

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২২:৪২, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২২:৪২, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পেছাতে জাতিসংঘকে চিঠি নতুন সরকারের

বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে গ্র্যাজুয়েশনের জন্য আরো তিন বছর সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছে নবনির্বাচিত সরকার। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে চিঠিটি পাঠিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী গত বুধবার জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) অধীন কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পোর কাছে একটি চিঠি পাঠান।

এতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে এলডিসি উত্তরণ-প্রস্তুতির সময়কাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ হবে চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর। চূড়ান্ত উত্তরণের আগে তৃতীয় পর্যালোচনা প্রক্রিয়াও চলমান।

শুক্রবার ( ২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ইআরডি সচিব গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের সময় বাড়াতে জাতিসংঘের সিডিপিতে আমাদের মিশনের মাধ্যমেই গতকাল (বৃহস্পতিবার) একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। আমরা পরশু দিন চিঠিটি দিয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটা একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কেমন উত্তর আসবে, এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন। প্রক্রিয়াটা কীভাবে এগোয়, সেটার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

ইআরডি সূত্রে জানা যায়, জাতিসংঘের সিডিপি ২৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি বৈঠকে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার যে প্রস্তুতির সময় পেয়েছিল, তা করোনা মহামারি-পরবর্তী পাঁচ বছরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ব্যবহারের কথা ছিল। কিন্তু এ সময়ে একাধিক বৈশ্বিক ধাক্কা অর্থনীতিকে প্রভাবিত করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে, বিশ্বব্যাপী কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব পড়েছে।

পাশাপাশি শিপিং খাতে সরবরাহ বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নানা পরিবর্তন, বিনিয়োগ হ্রাস, রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি—সব মিলিয়ে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন।

ফলে প্রস্তুতিমূলক সময়কাল যথাযথভাবে ব্যবহার করা গেলেও এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সমন্বয় ও নীতিগুলো সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা যায়নি। চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিতে উচ্চ মাত্রার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের নীতিগত পরিবর্তন বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা মোকাবেলায় সময় প্রয়োজন।

এ অবস্থায় এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন করতে হলে বাংলাদেশের তিন বছরের একটি ‘ক্রাইসিস অ্যাসেসমেন্ট’ এবং সম্ভাব্য সময় প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সে সময় বৃদ্ধি করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে শঙ্কা প্রকাশ করে চিঠিতে বলেছে, বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হলে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য হ্রাসের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যা কিনা উত্তরণের টেকসই ও অপরিবর্তনীয় চরিত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

এর আগে গত বুধবার খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ বিলম্বিত করতে যা যা করা দরকার, সবই করা হবে। আজ থেকেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। ইআরডির সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় করে উত্তরণ বিলম্বিত করার কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ওই দিনই ইআরডি সচিব সিডিপি চেয়ারম্যানকে চিঠি দেন।

এএ

ব্যাংকার প্রতিবেদন

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন