ব্যাংকার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০:৪৭, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪৭, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজউক অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী বোর্ড গঠন হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীকে সভাপতি, একই মন্ত্রণালয়ে সচিবকে সহসভাপতি ও রাজউক চেয়ারম্যানকে সদস্য সচিব করে মোট ১৩ সদস্যের বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি গৃহায়ন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপন জারি করে এ বোর্ড গঠন করে।
বোর্ডের অন্যান্য সদস্য হলেন- স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আখতার, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. ইশরাত ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের (ইউআরপি) অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য প্রকৌশলী আলমগীর হাছিন আহমেদ ও বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের (আইএবি) সভাপতি ড. আবু সাঈদ এম আহমেদ।
এছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার কর্তৃক মনোনীত রাজধানীর বাইরে থেকে নির্বাচিত দুজন সংসদ সদস্য ও সুশীল সমাজের একজন প্রতিনিধিও থাকবেন সদস্য হিসেবে।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিভিন্ন ইস্যুর মধ্যে ড্যাপ কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় রাজউকের পক্ষ থেকে একটি অ্যাকশন প্ল্যান উপস্থাপন করা হয়। সেখানে বলা হয়, ঢাকার বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে তিন ধাপে ড্যাপ বাস্তবায়ন হবে। এক-তিন বছরের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি, তিন-পাঁচ বছরের মধ্যে মধ্যমেয়াদি ও ৫-১০ বছরের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
রাজউক সূত্র জানিয়েছে, ড্যাপ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য আবাসন নির্মাণের বিষয়টি। এরপর ঢাকার জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন, হিট আইল্যান্ড সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণ করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাঁটার রাস্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া সিদ্ধান্ত হয়েছে, রাজউক কোনো প্লটভিত্তিক প্রকল্প নেবে না। এখন থেকে রাজউক ফ্ল্যাটভিত্তিক প্রকল্প নেবে।
বোর্ড সভায় বলা হয়, এসব কর্মপরিকল্পনা সব রাজউক বাস্তবায়ন করবে না। তবে যে কাজগুলো সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে সে সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে রাজউক।
এ প্রসঙ্গে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ড্যাপ বাস্তবায়নের জন্য আমরা একটি অ্যাকশন প্ল্যান নিয়েছি। এটি তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী হাউজিংয়ের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়া হবে। এছাড়া ঢাকার মৌলিক সমস্যাগুলো গুরুত্বের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।’
গত ১৯ জানুয়ারি ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ শীর্ষক অধ্যাদেশটি পাস করেছে আইন মন্ত্রণালয়। এতে রাজউকের আওতাভুক্ত এলাকা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরী, ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ ও সাভার উপজেলার আওতাধীন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার আওতাধীন এলাকা, পাশাপাশি সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত এলাকায় এ আইন প্রযোজ্য হবে।
এর আগে দ্য টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট ১৯৫৩ অনুযায়ী সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য নিয়ে রাজউক গঠন হওয়ার বিধান ছিল। বর্তমানে এটি ১৩ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া রাজউকের সব বোর্ড মেম্বাররা ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব বা বিভিন্ন দপ্তরপ্রধানরা। তবে নতুন অধ্যাদেশে আমলাদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদেরও অন্তর্ভুক্ত করে বোর্ড গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে রাজউক আরো স্বচ্ছ ও সচল প্রতিষ্ঠানে রূপলাভ করবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, রাজউক বোর্ডের প্রধান কাজ হবে পরিকল্পিত, বাসযোগ্য ও সাম্যভিত্তিক নগরায়ণ নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে রাজউক প্রস্তাবিত বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনাসহ যাবতীয় কার্যক্রম তদারক ও মূল্যায়ন করবে।
নতুন অধ্যাদেশে ড্যাপ প্রণয়ন নিয়ে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ নিজের আওতাভুক্ত এলাকায় অনুমোদিত কৌশলগত পরিকল্পনা ও এলাকাভিত্তিক বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। কৌশলগত পরিকল্পনায় চারটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সেগুলো হলো ভবিষ্যৎ নগরীর বিস্তার এবং জনসংখ্যার প্রক্ষেপণ, প্রাকৃতিক ভূচিত্র অনুযায়ী ভূমির বিদ্যমান শ্রেণী বিন্যাস, নগরের ভূমি ব্যবহারের প্রকার ও চাহিদা নির্ণয় এবং টেকসই বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।
বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে—মৌজাভিত্তিক ভূমির বিস্তারিত বিবরণ, ভূমি ব্যবহার, পুনরুন্নয়ন, পুনর্বিন্যাস এলাকাসংক্রান্ত বিবরণ, জনঘনত্ব অঞ্চল বিভাজন ও জোনিং, অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়িতব্য কর্মসূচি, ইমারতের উচ্চতাসংক্রান্ত বিধিবিধান, ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি। সূত্র: বণিক বার্তা
এএ
ব্যাংকার প্রতিবেদন