ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৬ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪৮

র‍্যানকন অটোর ২৫ শতাংশ শেয়ার কিনে নিচ্ছে মিতসুবিশি

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১০:১৯, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১০:১৯, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

র‍্যানকন অটোর ২৫ শতাংশ শেয়ার কিনে নিচ্ছে মিতসুবিশি

বাংলাদেশের র‍্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নিজেদের কারখানায় জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন থেকে গাড়ি এনে সংযোজন করত। এখন র‍্যানকন অটোর মালিকানায় যুক্ত হচ্ছে মিতসুবিশি করপোরেশন। জাপানি প্রতিষ্ঠানটি র‌্যানকন অটোর ২৫ শতাংশ অংশীদারত্ব কিনে নিচ্ছে।

এ উপলক্ষে বুধবার রাতে ঢাকায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইডা শিনিচি। এছাড়া, উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই চুক্তি বর্তমান সরকারের অধীনে প্রথম বড় ধরনের প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ, যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেবে। মিতসুবিশি করপোরেশনের আগমন অন্যান্য বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদেরও বাংলাদেশে আসতে উৎসাহিত করবে। এই অংশীদারত্ব দেশের অটোমোবাইল শিল্পে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল, যার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো স্থানীয়ভাবে গাড়ি উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

দেশের চার চাকার পরিবহন খাতে এটি এখন পর্যন্ত জাপানের সবচেয়ে বড় সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই। এই অংশীদারত্বের মূল লক্ষ্য হলো উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং দেশীয় গ্রাহকদের আরও ভালো সেবা দেওয়া। পাশাপাশি আঞ্চলিক বাজারেও ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত র‍্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড দেশের ভোক্তাদের জন্য বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের যানবাহন উৎপাদন ও অ্যাসেম্বল করে আসছে।

সরকারের স্থানীয় উৎপাদন নীতিমালার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের জুন মাসে প্রতিষ্ঠানটি দেশে মিতসুবিশির জনপ্রিয় এক্সপ্যান্ডার মডেলের স্থানীয় উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ শুরু করে। বর্তমানে এটি দেশের সর্বাধিক বিক্রিত ফ্যামিলি এসইউভি। এই উদ্যোগকে দেশের অটোমোটিভ শিল্পের জন্য বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মিতসুবিশি করপোরেশনের এই কৌশলগত বিনিয়োগ ডিস্ট্রিবিউশন, সেলস এবং মার্কেটিং কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সাপ্লাই চেইনের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি তাদের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও বাজার প্রবেশাধিকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মিতসুবিশি করপোরেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিরোয়ুকি এগামি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অটোমোটিভ খাতে তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রেইলের সাথে অংশীদারত্ব স্থাপনে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। এই যৌথ উদ্যোগের সফলতা নিশ্চিতে সবরকম চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

র‍্যানকন হোল্ডিংস লিমিটেডের গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর রোমো রউফ চৌধুরী বলেন, মিতসুবিশি করপোরেশনের বৈশ্বিক দক্ষতা এবং র‍্যানকনের স্থানীয় বাজার সম্পর্কে গভীর ধারণা – বাংলাদেশের অটোমোটিভ শিল্পকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দেশের অটোমোটিভ খাতে এমন কৌশলগত যৌথ উদ্যোগ এটিই প্রথম, যা বাংলাদেশ-জাপান বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে বলে আমার বিশ্বাস।

এই কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য যানবাহনে অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, বিক্রয়-পরবর্তী সেবা আরও উন্নত হবে, সাশ্রয়ী মূল্যে স্পেয়ার পার্টস পাওয়া যাবে এবং দেশব্যাপী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি, জাপানি প্রযুক্তি ও বাংলাদেশের স্থানীয় বাজার সম্পর্কে জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে একটি দক্ষ স্থানীয় জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে এবং ভ্যাট ও করের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, র‍্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ ২০১৭ সালে দেশে যানবাহন সংযোজন শুরু করে। স্থানীয়ভাবে তারা প্রথম সংযোজন করে মিতসুবিশি আউটল্যান্ডার। এরপর একে একে ফুসো বিএম১১৭ বাস, মার্সিডিজ ওএফ১৬২৩ বাস, প্রোটন এক্স৭০, জ্যাক ও জিএমসি ট্রাক ও পিকআপ ট্রাক সংযোজন করা হয়। গাজীপুরের গাড়ির এই কারখানা সম্প্রসারণে গত বছর প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কোম্পানিটি।

র‌্যানকন জানায়, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত র‍্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ দেশের ভোক্তাদের জন্য বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের যানবাহন উৎপাদন ও সংযোজন করে আসছে। ২০২৫ সালের জুনে প্রতিষ্ঠানটি দেশে মিতসুবিশির জনপ্রিয় এক্সপ্যান্ডার মডেলের গাড়ি স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত শুরু করে। জাপানের মিতসুবিশির আউটল্যান্ডার মডেলের গাড়ি সংযোজনের মধ্য দিয়ে র‌্যানকন অটোর যাত্রা শুরু হয় ওই বছর।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্যিকভাবে এই মডেল উৎপাদনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায় র‌্যানকন অটো। বর্তমানে ৯৮ হাজার বর্গফুটের এ কারখানায় চার ধরনের গাড়ি সংযোজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে মিতসুবিশির এক্সপ্যান্ডার মডেল ও প্রোটনের এক্স-৭০ মডেলের ব্যক্তিগত সংযোজন ও গাড়ি রং করা হয়।

এএ

ব্যাংকার প্রতিবেদন

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন