ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

২ মাঘ ১৪৩২, ২৬ রজব ১৪৪৭

আদর্শ পেশাজীবীর মাসিক আয় ব্যবস্থাপনা: দান–সঞ্চয়–ব্যয়

তারেক সিদ্দিকী

প্রকাশ: ১১:১৪, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১১:১৪, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

আদর্শ পেশাজীবীর মাসিক আয় ব্যবস্থাপনা: দান–সঞ্চয়–ব্যয়

আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো পেশার সাথে জড়িত—ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার, সাংবাদিক, অভিনেতা, ছোট বা বড় ব্যবসায়ী, আইনজীবী, সেবামূলক সংগঠনের সদস্য , শিক্ষক কিংবা বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় পেশা ফরেন স্টাডি স্টুডেন্ট কাউন্সিলর। যেই পেশাতেই থাকি না কেন, মাস শেষে আমরা সবাই নির্দিষ্ট একটি বেতন পাই এবং সেই আয়ের উপর ভিত্তি করেই পুরো মাসের পারিবারিক ব্যয় পরিচালনা করে থাকি। কিন্তু অনেক সময় মাসের শেষ দিকে টানাপোড়েন দেখা দেয়।

হঠাৎ অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাওয়া—এসব কারণে আর্থিক অবস্থায় চাপ তৈরি হয়। এর সঙ্গে থাকে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার ভয়।

কিভাবে এমন আর্থিক ভারসাম্য তৈরি করা যায়, যাতে বর্তমানও ভালো থাকে এবং ভবিষ্যতও নিরাপদ হয়? এর একটি সুন্দর, সহজ এবং কার্যকর সমাধান হলো— মাসিক আয়কে দান–সঞ্চয়–ব্যয় এই ৩ ভাগে ভাগ করুন। যেমন-

দান করুন (আয়ের ৫%)

দানের বরকতে অদেখা বিপদ–আপদ দূর হয়, রিজিকে প্রশান্তি আসে। পরিবারের মাসিক ব্যয়ও সহজ হয়ে যায়। বেতন হাতে পাওয়ার পর প্রথম কাজ হবে অন্তত ৫% দান করা। ধরুন, ট্যাক্স ও প্রভিডেন্ট ফান্ড বাদ দিয়ে হাতে পাচ্ছেন ১,০০,০০০ টাকা। এর ৫% অর্থাৎ ৫,০০০ টাকা দান করে দিন।

কাদেরকে দান করবেন? আপনি চাইলে— একজন প্রবীণ মানুষ বা এতিমের দায়িত্ব নিতে পারেন, থ্যালাসেমিয়া রোগীর রক্তের খরচ বহন করতে পারেন অথবা যে কোনো বিশ্বস্ত দাতব্য প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত দান করতে পারেন।

সঞ্চয় করুন (আয়ের ৫%)

দানের পর দ্বিতীয় কাজ হবে সঞ্চয়। মাসিক আয়ের অন্তত ৫ শতাংশ, এ ক্ষেত্রে ৫,০০০ টাকা সঞ্চয় করুন। একটি নির্ভরযোগ্য ব্যাংকে ৩ বা ৫ বছরের ডিপিএস খোলা যেতে পারে। সামান্য সঞ্চয়ও আপনাকে মানসিক নিরাপত্তা দেবে।

ওয়ারেন বাফেটের অসাধারণ উপদেশ: “ব্যয়ের পর যা বাঁচে তা সঞ্চয় করোনা—বরং সঞ্চয়ের পর যা থাকে তা ব্যয় করো।”

ব্যয় করুন (বাকি ৯০%)

এখন বাকি টাকাটি দিয়ে মাসিক ব্যয় করুন। সবসময় মনে রাখবেন, Cut your coat according to your cloth— আয় যত, ব্যয় ততটুকুই। বিলাসী বা অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা থেকে বিরত থাকুন। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

ব্যয়কে সুশৃঙ্খল করতে খাতভিত্তিক আলাদা আলাদা খামে টাকা ভাগ করে রাখুন, যেমন— বাসা ভাড়া, মাসিক বাজার, যাতায়াত, সন্তানের স্কুল ফি ও ইউটিলিটি বিল। এভাবে আলাদা করে রাখলে অপচয় কমবে, হিসাবও থাকবে পরিষ্কার।

উল্লেখ্য, আসল সঞ্চয় কেবল ব্যাংকের ডিপিএস নয়, আপনি যা দান করেন, সেটাই আপনার প্রকৃত সঞ্চয়। ইহকাল ও পরকালে এর নিরাপত্তা আপনাকে রক্ষা করবে।

লেখক: শাখা ব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড।

এএ

তারেক সিদ্দিকী

আরও পড়ুন