ঢাকা, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

১৭ ফাল্গুন ১৪৩২, ১২ রমজান ১৪৪৭

৯৭৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অডিট রিপোর্ট প্রকাশ, আত্মসাৎ প্রায় ৯০ কোটি

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২২:৪০, ১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২২:৪০, ১ মার্চ ২০২৬

৯৭৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অডিট রিপোর্ট প্রকাশ, আত্মসাৎ প্রায় ৯০ কোটি

দেশের ৯৭৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)।গত ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করে জাল সনদ ও ভুয়া নিয়োগসহ নানা অনিয়মের প্রমাণ পায় অধিদপ্তরটি।

প্রতিবেদনে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত প্রায় ৮৯ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করেছে ডিআইএ। একই সঙ্গে বেহাত হওয়া ১৭৬ একর জমি উদ্ধারের সুপারিশ করা হয়।

রোববার ডিআইএ’র পরিচালক প্রফেসর এম এম সহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডিআইএ কর্তৃক পরিচালিত তদন্তের ভিত্তিতে এই সব প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তালিকা অধিদপ্তরের নিজস্ব ওয়েবসাইটে (www.dia.gov.bd) প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে অনিয়মের মধ্যে রয়েছে— জাল বা ভুয়া সনদ, অগ্রহণযোগ্য সনদ, ভুয়া নিয়োগ, সরাসরি অর্থ আত্মসাৎ এবং ভ্যাট ও আয়কর সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম। এসব কারণে মোট ৮৯ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার ৬০৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বেদখল হওয়া ১৭৬ দশমিক ৫২৩ একর জমি উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

পরিদর্শন প্রতিবেদনের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ড, সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা অফিস এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের ই-মেইলে প্রেরণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিবেদন না পেলে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে তা সংগ্রহ করতে পারবে। বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠানের লেটার হেড প্যাডে আবেদন করে ([email protected]) ঠিকানায় ই-মেইল করলে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন পুনরায় পাঠানো হবে।

প্রতিবেদন সংগ্রহের জন্য কাউকে সশরীরে অধিদপ্তরে আসার প্রয়োজন নেই বলে জানানো হয়েছে।

শিক্ষা খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে  জানান পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক প্রফেসর মো. ইদ্রিস আলী।

তিনি বলেন, ‘বিগত ৬ মাসে আমাদের পরিদর্শন টিমগুলো দেশের ৯৭৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন তদন্ত চালিয়েছে। তদন্তকালে শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদ ও বিএডিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সনদ জাল বা ভুয়া হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।’ 

নিরীক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক আরও বলেন, আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে এ সব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছি। এখন মন্ত্রণালয় শুনানির মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

এএ

ব্যাংকার প্রতিবেদন

আরও পড়ুন