ঢাকা, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

১৭ ফাল্গুন ১৪৩২, ১২ রমজান ১৪৪৭

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা বিধিমালা খসড়ায় মতামত আহ্বান বিএসইসি’র

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২২:৪৬, ১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২২:৪৭, ১ মার্চ ২০২৬

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা বিধিমালা খসড়ায় মতামত আহ্বান বিএসইসি’র

পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা জোরদারে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ ও তথ্য-প্রকাশকারীর সুরক্ষা প্রদান) বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়ার ওপর সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি আহ্বান করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

রোববার জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানায়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর সেকশন ৩৩(১) এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ২৪(১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ খসড়া বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে আগামী দুই মাসের মধ্যে মতামত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুঁজিবাজারে আইন ও বিধি-বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিতকরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, অনিয়ম, প্রতারণামূলক কার্যক্রম, ইনসাইডার ট্রেডিং, বাজার কারসাজি, অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে এ বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

খসড়া বিধিমালায় ‘তথ্য-প্রকাশকারী (হুইসেলব্লোয়ার) হিসেবে কমিশনে নিবন্ধিত কোনো বাজার মধ্যস্থতাকারী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, নিবন্ধিত ফান্ড বা বিশেষ উদ্দেশ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান (এসপিভি) এর কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য বা নিরীক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত বিশ্বাসের ভিত্তিতে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট অনিয়ম, আইন লঙ্ঘন বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত হলে নির্ধারিত ফরমে কমিশনের চেয়ারম্যানের নিকট তথ্য প্রকাশ করতে পারবেন। তথ্য লিখিতভাবে, সরাসরি, ডাকযোগে বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রেরণ করা যাবে।

এতে তথ্য-প্রকাশকারীর পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখার বিধান রাখা হয়েছে। তথ্য প্রকাশের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে পদাবনতি, বদলি, চাকরিচ্যুতি, হয়রানি বা বৈষম্যমূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, কমিশনের অধীনে একজন অতিরিক্ত পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে ‘ডিজিগনেটেড অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি তথ্য গ্রহণ, প্রাথমিক যাচাই-বাছাই, রেজিস্টার সংরক্ষণ ও প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন। প্রয়োজনবোধে বিষয়টি কমিশনের ইন্সপেকশন, ইনকোয়ারি অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগে পাঠানো হবে।

প্রাথমিক যাচাইয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে অভিযোগ তুচ্ছ, হয়রানিমূলক বা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যক্রম বন্ধের বিধানও রাখা হয়েছে।

বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, তথ্য-প্রকাশকারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরোপিত জরিমানা বা অর্থদণ্ড আদায় হলে কমিশন স্বীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আর্থিক প্রণোদনা বা সম্মাননা প্রদান করতে পারবে। তবে এ প্রণোদনার পরিমাণ আদায়কৃত অর্থের ২৫ শতাংশের বেশি এবং কোনো অবস্থাতেই ১০ কোটি টাকার বেশি হবে না।

খসড়া বিধিমালা কমিশনের ওয়েবসাইট ও সংবাদপত্রে প্রকাশের তারিখ থেকে দুই মাসের মধ্যে মতামত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। মতামত কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর ই-৬/সি, আগারগাঁও, শের-ই-বাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকা, ঢাকা-১২০৭ ঠিকানায় অথবা [email protected]  এই  ইমেইলে পাঠানো যাবে। 

কমিশন মনে করছে, এ বিধিমালা কার্যকর হলে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এএ

ব্যাংকার প্রতিবেদন

আরও পড়ুন