ব্যাংকার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৮:০৩, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৮:০৪, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
ব্যাংক খাতে সুশাসন ও আস্থা ফেরাতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এখন থেকে সব তফসিলি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহীদের দুর্নীতি, ঘুষ, অর্থপাচার ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে লিখিত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিএফআইইউ’র দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, এই অঙ্গীকারনামা শুধু স্বাক্ষর করলেই হবে না, তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কক্ষে দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখতে হবে।
এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে তারা কোনো ধরনের দুর্নীতি, ঘুষ, জাল ঋণ, ভুয়া জামানত, জাল কাগজপত্র বা আর্থিক অনিয়মে জড়াবেন না এবং তা সহ্যও করবেন না।
নতুন নিয়োগ বা পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রেও এই অঙ্গীকার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের ঘুষ, দুর্নীতি বা হয়রানির অভিযোগ সরাসরি বিএফআইইউতে জানানোর সুযোগ দিতে অভিযোগ বাক্স ও কিউআর কোড স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএফআইইউ জানিয়েছে, নীতিমালা বহির্ভূত ঋণ অনুমোদন, ভুল মূল্যায়ন, ভুয়া এলসি ও জাল রপ্তানি বিলকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সংস্থাটি বলছে, অর্থপাচার দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল এবং এ বিষয়ে থাকবে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পালন করা হবে।
বিএফআইইউ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরে ব্যাংকিং খাতে করপোরেট গভর্ন্যান্স, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের ঋণ জালিয়াতি ও অনিয়মের ঘটনা বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংকে চেয়ারম্যান, পরিচালক বা এমডি নিয়োগ বা পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রেও একইভাবে অঙ্গীকারনামা ও ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করতে হবে।
ব্যাংকার প্রতিবেদন