ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

৪ কার্তিক ১৪৩৩, ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

৫ ব্যাংক একীভূতের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার সুযোগ নেই: গভর্নর

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২১:৫৬, ১১ মে ২০২৬ | আপডেট: ২১:৫৭, ১১ মে ২০২৬

৫ ব্যাংক একীভূতের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার সুযোগ নেই: গভর্নর

ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। এ বৈঠকে পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ বা মার্জার নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে গভর্নর বলেন, ইতোমধ্যে যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেখান থেকে সরে আসার সুযোগ নেই।

সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ জানিয়েছে ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবি। সংগঠনটির নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ব্যাংকিং খাতের টাকা লুট করা ব্যক্তিরা যদি এই ধারার সুযোগ নিয়ে আবারও মালিকানা বা পরিচালনায় ফিরে আসেন, তবে পুরো ব্যাংকিং খাতই বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর তাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, আইনের কঠোর শর্তের কারণে এমন সুযোগ তৈরি হবে না।

বিএবি ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকারের নেতৃত্বে বৈঠকে হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক এ. কে. আজাদ, পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুরুর রহমান, বিএবির ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান শরীফ জহির, ব্যাংক এশিয়ার চেয়ারম্যান রোমো রউফ চৌধুরীসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা নিয়ে ব্যবসায়ী ও ব্যাংক উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, এই ধারার সুযোগ নিয়ে অতীতে ব্যাংক দখল, অনিয়ম কিংবা অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আবারও ব্যাংকের পরিচালনায় ফেরার চেষ্টা করতে পারেন।

বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দলের এক সদস্য বলেন, আমরা গভর্নরকে আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। যারা ব্যাংকিং খাতের টাকা লুট করেছে, তারা যদি এই ধারার সুবিধা নিয়ে ফিরে আসে, তবে পুরো খাতটিই ঝুঁকির মুখে পড়বে। তবে গভর্নর তাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, আইনে এমন কিছু কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে, যা পূরণ করে অনিয়মকারীদের ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব। ফলে ব্যাংক খাতকে আবারও ঝুঁকিতে ফেলার সুযোগ তৈরি হবে না।

বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার বলেন, ইতোমধ্যে যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেখান থেকে সরে আসার সুযোগ নেই বলে গভর্নর জানিয়েছেন। তবে ভবিষ্যতে অন্য কোনো ব্যাংক একীভূত করার আগে যেন পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেওয়া হয়-এমন পরামর্শ দিয়েছে বিএবি। গভর্নরও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন বলে জানান তিনি।

বৈঠকে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা সচল করতে বিশেষ তহবিল গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। আব্দুল হাই সরকার বলেন, ব্যাংকগুলো চলতি মূলধন সহায়তা দিতে পারে। তবে কেন কোনো কারখানা বন্ধ হয়েছে, সেটি বিবেচনায় নিয়েই সহায়তা দেওয়া হবে।

এএ

ব্যাংকার প্রতিবেদন

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন