ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

২৭ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮

অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল অর্থনীতি, বেড়েছে মাথাপিছু আয়

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১০:৫৬, ১১ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১০:৫৭, ১১ জুন ২০২৬

অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল অর্থনীতি, বেড়েছে মাথাপিছু আয়

২০২৫-২৬ অর্থবছরে চলতি মূল্যে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। যা মার্কিন ডলারে প্রায় ৫০১ বিলিয়ন বা অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা (৪৫৬ বিলিয়ন ডলার)।

বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সাময়িক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবিএস’র হিসাব মতে, দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা (৩,০২০ মার্কিন ডলার), যা আগের অর্থবছরের ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা (২,৭৬৯ ডলার) থেকে ৩৪ হাজার ৩৬২ টাকা বেশি।

পরিসংখ্যান ব্যুরো তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাময়িকভাবে ৪.১৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৩.৪৯ শতাংশের তুলনায় কিছুটা বেশি। তবে প্রবৃদ্ধির এই ইতিবাচক হারের বিপরীতে বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা গেছে নিম্নমুখী প্রবণতা।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে থাকার পূর্বাভাস দিলেও প্রাথমিক হিসাবে তা ছাড়িয়ে গেছে।

জিডিপির আকার ৫০১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়া প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, 'জিডিপির আকার ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি অবশ্যই ইতিবাচক দিক। এটি ইঙ্গিত দেয় যে অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তবে শুধুমাত্র আকার বৃদ্ধির দিকে না তাকিয়ে দেখতে হবে এই প্রবৃদ্ধির সুফল কতটা বিস্তৃত হচ্ছে।'

তিনি আরও যোগ করেন, 'রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিনিয়োগকারীরা সাধারণত এমন পরিবেশ খোঁজেন যেখানে স্থিতিশীলতা রয়েছে।'

জিডিপি প্রবৃদ্ধি বিষয়ে তিনি বলেন, 'সার্বিকভাবে প্রবৃদ্ধি বাড়াও ভালো লক্ষণ, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা, যা টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কর্মসংস্থানমুখী—বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের মাধ্যমে।'

অধ্যাপক বিদিশা মনে করেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে এর চেয়েও বেশি জরুরি হচ্ছে প্রবৃদ্ধির গুণগত মান। অর্থাৎ এই প্রবৃদ্ধি কীভাবে আসছে, কোন খাত থেকে আসছে এবং এর সুফল সাধারণ মানুষ কতটা পাচ্ছে।

তিনি বলেন, 'শুধু সংখ্যার ভিত্তিতে প্রবৃদ্ধি মূল্যায়ন না করে আমাদের দেখতে হবে এই প্রবৃদ্ধি অন্তর্ভুক্তিমূলক কি না। এক বছরে প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়া বা কমার বিষয়টি খুব বড় বিষয় নয়; বরং গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবৃদ্ধির কাঠামো ও প্রভাব।'

খাতভিত্তিক প্রবৃদ্ধিতে দেখা যায়, কৃষি খাতে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২.৭৮ শতাংশ, যা আগের বছরের ২.৪২ শতাংশের তুলনায় ০.৩৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়েছে। সাময়িক হিসাবে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২.৮৬ শতাংশ, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৩.৭১ শতাংশের তুলনায় ০.৮৫ শতাংশ কম।

অধ্যাপক বিদিশা উল্লেখ করেন, 'কৃষি খাতে খুব বেশি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়, কারণ এই খাতটি প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে পরিচালিত হয়। তবে সামগ্রিকভাবে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয় এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা গতি ফিরছে বলেই প্রতীয়মান হয়।'

তিনি আরও বলেন, 'ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগের ধীরগতি এবং ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে নেতিবাচক প্রবণতা নীতি-নির্ধারকদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। কারণ এই খাতগুলোই অর্থনীতির ড্রাইভিং ফোর্স হিসেবে কাজ করে।'

সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪.৫৯ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ৪.৩৫ শতাংশ থেকে ০.২৪ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।

এদিকে জিডিপির সঙ্গে বিনিয়োগের অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছে ২৭.৯৩ শতাংশ, যা আগের বছর ছিল ২৮.৫৪ শতাংশ। একইভাবে দেশজ সঞ্চয় কমে ২১.৩৮ শতাংশ এবং জাতীয় সঞ্চয় কমে ২৬.৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ৫০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানো বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

ব্যাংকার প্রতিবেদন

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন