ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

৪ কার্তিক ১৪৩৩, ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

১ হাজার কোটি টাকার গ্রিন বন্ড ইস্যু করবে ব্যাংক এশিয়া

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১০:২০, ৯ মে ২০২৬ | আপডেট: ১০:২০, ৯ মে ২০২৬

১ হাজার কোটি টাকার গ্রিন বন্ড ইস্যু করবে ব্যাংক এশিয়া

ব্যাংক এশিয়া পিএলসির পর্ষদ ১ হাজার কোটি টাকার গ্রিন সাসটেইনেবল সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বন্ডের মেয়াদ হবে সাত বছর। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে বন্ডটি ইস্যু করা হবে বলে জানিয়েছে ব্যাংক এশিয়া।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে ব্যাংকটির পর্ষদ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসারে, পুরোপুরি অবসায়নযোগ্য এ গ্রিন বন্ডের ইউনিট রূপান্তরের কোনো সুযোগ থাকবে না। বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকের টায়ার-২ মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি সবুজ ও টেকসই উদ্যোগে অর্থায়নের জন্য কাজে লাগানো হবে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ব্যাংক এশিয়ার পর্ষদ। ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে আগামী ১১ জুন বেলা ১১টায় ডিজিটাল প্লাটফর্মে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ মে।

আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ১৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৯৫ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ৪২ পয়সায়।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটি। এর মধ্যে ১০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংক এশিয়ার ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ১৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৭৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ২৮ পয়সায়।

ব্যাংক এশিয়ার সর্বশেষ সার্ভিল্যান্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘‌এএ প্লাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘‌এসটি- ওয়ান’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩১ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)।

১৯৯৯ সালে কার্যক্রম শুরু করা ব্যাংক এশিয়া পরবর্তী সময়ে ব্যাংক অব নোভা স্কটিয়া ও মুসলিম কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (এমসিবি) বাংলাদেশ শাখাগুলো কিনে নেয়ার মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে। ২০০১ সালে ব্যাংকটি স্কটিয়া ব্যাংকের এ-দেশীয় কার্যক্রমও অধিগ্রহণ করে।

সম্প্রতি পাকিস্তানের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক ব্যাংক আলফালাহ লিমিটেডের বাংলাদেশের সম্পদ ও দায় কিনে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ব্যাংক এশিয়া।

২০০৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক এশিয়ার অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ২৮২ কোটি ৪৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ৮৯৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১২৮ কোটি ২৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪৬। এর ৫০ দশমিক ৭০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৯ দশমিক শূন্য ১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১০ দশমিক ২৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

এএ

ব্যাংকার প্রতিবেদন

আরও পড়ুন