ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

১২ কার্তিক ১৪৩৩, ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামে রেকর্ড, পাম্পে জায়গা নেই মূল্য দেখানোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রকাশ: ২০:৪২, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২০:৪৬, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামে রেকর্ড, পাম্পে জায়গা নেই মূল্য দেখানোর

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে উঠেছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারেও। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা যাচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়ায়।

জ্বালানির দাম পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম গ্যাসবাডির তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার অন্তত পাঁচটি জ্বালানি স্টেশনে ডিজেলের দাম প্রতি গ্যালন ৯ দশমিক ৯৯৯ ডলারে পৌঁছেছে। দাম এতটাই বেড়েছে যে এসব স্টেশনের ডিজিটাল পাম্প ডিসপ্লেতে পুরো মূল্য দেখানোর জায়গা নেই। কারণ ডিসপ্লেতে সর্বোচ্চ চারটি সংখ্যা প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে।

গ্যাসবাডির পেট্রোলিয়াম বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান প্যাট্রিক ডি হান এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে কোন শহরের কোন নির্দিষ্ট স্টেশনে এই দাম নেওয়া হচ্ছে, তা তিনি উল্লেখ করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেলের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৭ দশমিক ৭৬ ডলার। এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে ৫৫ সেন্ট এবং এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ২ দশমিক ৮১ ডলার।

শুধু ক্যালিফোর্নিয়া নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রেই ডিজেলের দাম নতুন রেকর্ড গড়েছে। দেশটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম বেড়ে ৫ দশমিক ৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের জুনে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৮১ ডলারের রেকর্ড হয়েছিল।

ইআইএর হিসাবে, এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ৩ দশমিক ৭ সেন্ট বেড়েছে। আর গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১ দশমিক ৯৭ ডলার।

ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি স্টেশনে পেট্রলের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ফেনারে একটি স্টেশনে সাধারণ পেট্রল প্রতি গ্যালন ৯ দশমিক ৬৯ ডলারে বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে সিবিএস ১২ নিউজ। এর আগে মে মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি শেভরন স্টেশনে ডিজেল ৮ দশমিক ৮৯ ডলার এবং সাধারণ পেট্রল ৮ দশমিক ২৯ ডলারে বিক্রির খবর পাওয়া যায়।

অস্বাভাবিক উচ্চ দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগে সান বার্নার্ডিনো ও লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার কয়েকটি স্টেশনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। তবে এখন পর্যন্ত অভিযোগে উল্লেখ করা কোনো মূল্য নির্ধারণের ঘটনা প্রমাণিত হয়নি।

জ্বালানির দাম বাড়ার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা কম।

ট্রাম্প জ্বালানির দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে তিনি মজুত থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছাড়ার অনুমোদন দেন।

মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে কৌশলগত মজুত থেকে আরও প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল তেল কমেছে। ফলে মজুতে অবশিষ্ট তেলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ কোটি ৫৪ লাখ ব্যারেল।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন