ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

৪ কার্তিক ১৪৩৩, ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ডিআইজির নামে ক্রেডিট কার্ড চালাতেন ব্যাংক কর্মকর্তা, জানতেন না ভুক্তভোগী

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১১:৪৪, ১০ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৫, ১০ জুন ২০২৬

ডিআইজির নামে ক্রেডিট কার্ড চালাতেন ব্যাংক কর্মকর্তা, জানতেন না ভুক্তভোগী

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে তার অজান্তে ৫ লাখ টাকা সীমার একটি ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করা হয়। এরপর বছরের পর বছর সেই কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন চালিয়ে যান ব্যাংকেরই এক কর্মকর্তা।

বিস্ময়করভাবে পুরো সময়জুড়ে বিষয়টি শনাক্ত করতে পারেনি দেশের অন্যতম বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগী কর্মকর্তা নিজের সিআইবি রিপোর্টে ঋণখেলাপির তথ্য দেখতে পাওয়ার পর ফাঁস হয় আলোচিত এই জালিয়াতি।

ঘটনার ভুক্তভোগী ডিআইজি মো. মাহমুদুর রহমান, যিনি বর্তমানে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)তে দায়িত্ব পালন করছেন।

এমন একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার নামে জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসার পর পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়েও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় ব্র্যাক ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রাজধানীর জোয়ার সাহারা এলাকার বাসিন্দা সারোয়ারকে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৮ জুন গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, সারোয়ার হোসেন ব্র্যাক ব্যাংকের কার্ড সেলস বিভাগের সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে ২০১৭ সালে ডিআইজি মাহমুদুর রহমানের কাছ থেকে ক্রেডিট কার্ড দেওয়ার কথা বলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেন। কিন্তু পরে সেই নথিপত্র ব্যবহার করে পাঁচ লাখ টাকা লিমিটের একটি ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করলেও সেটি কখনো প্রকৃত গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়নি।

বরং প্রতারণার উদ্দেশ্যে ব্যাংকের রেকর্ডে নিজের মোবাইল নম্বর এবং ভুয়া ঠিকানা যুক্ত করেন সারোয়ার। ফলে কার্ডটির যাবতীয় ওটিপি, ভেরিফিকেশন কোড ও অন্যান্য নিরাপত্তা বার্তা সরাসরি তার মোবাইল ফোনে আসতে থাকে। এ সুযোগে তিনি দীর্ঘদিন কার্ডটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে ব্যবহার করেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ওই কার্ড ব্যবহার করে মোট ১৭ লাখ ৭০ হাজার ২১৩ টাকার লেনদেন করা হয়। এর মধ্যে ১৪ লাখ টাকার বেশি পরিশোধ করা হলেও সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৫ টাকা ব্যাংকে পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করা হয়।

আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই দীর্ঘ সময়জুড়ে ব্যাংকের কোনো পর্যায়েই জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়েনি।

সিআইডির তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, একজন গ্রাহকের নামে ইস্যুকৃত ক্রেডিট কার্ডে ভিন্ন মোবাইল নম্বর সংযুক্ত করে বছরের পর বছর লেনদেন চললেও তা ব্যাংকের নজরদারি ব্যবস্থার চোখ এড়িয়ে যায়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ব্র্যাক ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও গ্রাহক তথ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি সামনে আসে যখন ডিআইজি মাহমুদুর রহমান অন্য একটি আর্থিক কার্যক্রমের জন্য আবেদন করতে গিয়ে নিজের সিআইবি রিপোর্টে ব্র্যাক ব্যাংকের ঋণসংক্রান্ত তথ্য দেখতে পান। অথচ তিনি কখনো ওই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেননি কিংবা কোনো ঋণও গ্রহণ করেননি। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে লিখিত অভিযোগ করেন।

এরপর শুরু হয় অনুসন্ধান। ব্র্যাক ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, সারোয়ার হোসেন গ্রাহকের নথিপত্র ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে কার্ডটি তৈরি করেছিলেন এবং প্রকৃত গ্রাহকের অজান্তেই নিজে তা ব্যবহার করে আসছিলেন।

সূত্র: গণমাধ্যম

এএ

ব্যাংকার প্রতিবেদন

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন