ব্যাংকার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১:৩০, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৩৪, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে ডিজেলনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে। কৃষি, গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে শিল্প উৎপাদন—অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই ডিজেলের ব্যবহার রয়েছে। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় থেকে উৎপাদন খরচ—সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়বে।
ডিজেলকে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু ব্যবসা নয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও পড়তে পারে।
দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ এখনো পুরোপুরি নিরবচ্ছিন্ন নয়। ফলে অনেক শিল্পকারখানাকে বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হয়। এতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি খরচ হয়। ডিজেলের দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে।
উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনিতেই বাজারে বিক্রি কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে অনেক ব্যবসা। এর মধ্যে উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় আরও বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।
অন্যদিকে পণ্যের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপরও নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। এতে ব্যবসা ও ভোক্তা—উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।
জ্বালানি তেলে সরকারের ভর্তুকির চাপের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘদিন জ্বালানির দাম বাড়লেও দেশে সে অনুযায়ী নিয়মিত মূল্য সমন্বয় করা হয়নি—এমন যুক্তি রয়েছে। ফলে মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজন থাকলেও একবারে বড় ধরনের দাম বৃদ্ধি ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশেও দ্রুত সেই অনুযায়ী দাম সমন্বয় করা প্রয়োজন। সরকার আগে যে নিয়মিত মূল্য সমন্বয়ের ব্যবস্থা চালু রেখেছিল, সেই ব্যবস্থায় ফিরে গিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সুফল ভোক্তাদের দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
জ্বালানির দাম বাড়ানোই সমস্যার একমাত্র সমাধান কি না, সেটিও বিবেচনা করা জরুরি। জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থায় অপচয় এবং সিস্টেম লস কমানো গেলে ব্যয় কমানোর সুযোগ রয়েছে।
ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়ানোর পরিবর্তে জ্বালানির দাম বাড়ানো তুলনামূলক সহজ পথ হলেও এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বেশি হতে পারে। তাই মূল্য সমন্বয়ের পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো এবং অপচয় কমানোর উদ্যোগও জরুরি।
একদিকে সরকার ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার কথা বলছে, অন্যদিকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বাড়াচ্ছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দুই উদ্যোগের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, কম বিক্রি এবং বাড়তি পরিচালন ব্যয়ের চাপে থাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নতুন বোঝা তৈরি করতে পারে। সব মিলিয়ে অর্থনীতির জন্য অস্বস্তিকর এক সময়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে।
তাই জ্বালানির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের রাজস্ব ও ভর্তুকির হিসাবের পাশাপাশি কৃষি, পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ ভোক্তার ওপর এর সামগ্রিক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমলে দ্রুত দেশে দাম সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় অপচয় ও সিস্টেম লস কমানোর উদ্যোগ নেওয়া গেলে মূল্যবৃদ্ধির চাপও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
এদিকে সরকারের রাজস্ব আয় না বাড়লেও সামনে বেতন বৃদ্ধির কারণে ব্যয় বাড়ছে। ফলে সরকারের ওপরও আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এই বাস্তবতায় জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে দীর্ঘমেয়াদি ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ জরুরি।
ব্যবসা সহজ করার উদ্যোগের সঙ্গে চাই সামঞ্জস্য
একদিকে সরকার ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার কথা বলছে, অন্যদিকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বাড়াচ্ছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দুই উদ্যোগের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, কম বিক্রি এবং বাড়তি পরিচালন ব্যয়ের চাপে থাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নতুন বোঝা তৈরি করতে পারে। সব মিলিয়ে অর্থনীতির জন্য অস্বস্তিকর এক সময়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে।
তাই জ্বালানির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের রাজস্ব ও ভর্তুকির হিসাবের পাশাপাশি কৃষি, পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ ভোক্তার ওপর এর সামগ্রিক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমলে দ্রুত দেশে দাম সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় অপচয় ও সিস্টেম লস কমানোর উদ্যোগ নেওয়া গেলে মূল্যবৃদ্ধির চাপও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
এদিকে সরকারের রাজস্ব আয় না বাড়লেও সামনে বেতন বৃদ্ধির কারণে ব্যয় বাড়ছে। ফলে সরকারের ওপরও আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এই বাস্তবতায় জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে দীর্ঘমেয়াদি ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ জরুরি।
মো. ফজলুল হক
প্রশাসক, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)
ব্যাংকার প্রতিবেদন