নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১:৪০, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪১, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬: সরকারি কেনাকাটার দরপত্রে নতুন, ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে যোগ্যতার শর্ত শিথিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে গত ২০ বছরে সরকারি ক্রয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ না পাওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘সুযোগবঞ্চিত’ হিসেবে বিবেচনা করে দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
এ জন্য সরকার ‘গণ খাতে ক্রয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সোমবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো কাজের জন্য প্রয়োজন না থাকলে দরপত্রে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে দীর্ঘ ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা চাওয়া যাবে না। একইভাবে নির্দিষ্ট টার্নওভার বা আগের সরকারি কাজের অভিজ্ঞতাকে সব ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক করা যাবে না। তবে কাজের ধরন, জটিলতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার শর্ত রাখা যাবে।
সরকারি দরপত্রে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও নারী দরপত্রদাতাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যেও যোগ্যতার কিছু শর্ত শিথিল করা হয়েছে।
সীমিত দরপত্র পদ্ধতি (এলটিএম) ব্যবহারের ক্ষেত্রও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। বিশেষায়িত পণ্য বা সেবা, সীমিতসংখ্যক সরবরাহকারী রয়েছে—এমন পণ্য, জরুরি প্রয়োজন এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পণ্যের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে।
এলটিএমে সর্বনিম্ন দর সমান হলে আগে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত কাজ লটারির মাধ্যমে দেওয়ার সুযোগ ছিল। সংশোধিত অধ্যাদেশে ওই নির্দিষ্ট সীমা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এখন সর্বনিম্ন মূল্যায়িত দরদাতার সঙ্গে কারিগরি ও আর্থিক বিষয়, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত নিয়ে দর-কষাকষির সুযোগ থাকবে। তবে দর কমানোর জন্য দর-কষাকষি করা যাবে না।
বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে সরকারি দরপত্রে অংশ নিতে হলে বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গঠন করতে হবে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকার এ শর্ত শিথিল করতে পারবে।
যৌথ উদ্যোগে দেশীয় অংশীদারের ন্যূনতম অংশীদারত্ব কত হবে, তা পরবর্তী বিধির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
সরকারি কেনাকাটায় দেশীয়ভাবে উৎপাদিত বা প্রস্তুত করা পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও সংশোধিত অধ্যাদেশে রাখা হয়েছে। এর লক্ষ্য স্থানীয় উৎপাদন, দেশীয় শিল্প ও কর্মসংস্থানকে উৎসাহিত করা।
জাতীয় নিরাপত্তা, জনস্বার্থ বা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্বার্থে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রচলিত সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার সব ধাপ অনুসরণ না করেও কেনাকাটার সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকার এ ব্যবস্থাকে ‘বিকল্প সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
এর আওতায় সরাসরি কেনাকাটা ও একক উৎসভিত্তিক কেনাকাটার সুযোগ থাকবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দীর্ঘ দরপত্র প্রক্রিয়ার কারণে প্রয়োজনীয় পণ্য বা সেবা পেতে যে বিলম্ব হয়, তা কমানোই এর উদ্দেশ্য।
উন্মুক্ত দরপত্রে প্রাক্-যোগ্যতা, বিজ্ঞাপন, সমান প্রতিযোগিতা এবং দরপত্র জমা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছে।
কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব আলাদাভাবে মূল্যায়নের পাশাপাশি নির্ধারিত মানদণ্ডে নম্বর দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে শুধু সর্বনিম্ন দর নয়, কাজের মান, কারিগরি সক্ষমতা, টেকসই বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য নির্ধারিত বিষয়ও মূল্যায়নের আওতায় আসবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর অন্য দরদাতাদের ফলাফল জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচিত দরদাতার মালিকানা ও চুক্তিসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের বিধান রাখা হয়েছে।
দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি, চক্রান্ত, জবরদস্তি, প্রতিবন্ধকতা, চুক্তির কাজ সম্পাদনে ব্যর্থতা বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দিতে হবে।
সরকারি ক্রয়ে নতুন ও সুযোগবঞ্চিতদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এ ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক করেছেন ক্রয় আইন বিশেষজ্ঞরা।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)–এর ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ক্রয়ে ঠিকাদারদের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতার প্রবণতা রয়েছে। শীর্ষ ৫ শতাংশ ঠিকাদার মোট প্রকল্প মূল্যের ৬১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। অন্যদিকে ১০ শতাংশ ঠিকাদারের দখলে রয়েছে ১ শতাংশেরও কম বাজার।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন সুযোগবঞ্চিত থাকা এক শ্রেণির ঠিকাদারকে ব্যবসায় ফেরার সুযোগ দেওয়ার যৌক্তিকতা থাকতে পারে। তবে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর মতে, সুযোগ দেওয়ার নামে যদি শুধু ঠিকাদারদের মধ্যে ‘হাতবদল’ হয়, তাহলে দেশ ও জনগণ লাভবান হবে না।
তিনি সরকারি কেনাকাটায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগকে ইতিবাচক বলেও উল্লেখ করেন।
সরকারি ক্রয়ে নতুন ও সুযোগবঞ্চিতদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এ ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক করেছেন ক্রয় আইন বিশেষজ্ঞরা।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)–এর ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ক্রয়ে ঠিকাদারদের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতার প্রবণতা রয়েছে। শীর্ষ ৫ শতাংশ ঠিকাদার মোট প্রকল্প মূল্যের ৬১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। অন্যদিকে ১০ শতাংশ ঠিকাদারের দখলে রয়েছে ১ শতাংশেরও কম বাজার।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন সুযোগবঞ্চিত থাকা এক শ্রেণির ঠিকাদারকে ব্যবসায় ফেরার সুযোগ দেওয়ার যৌক্তিকতা থাকতে পারে। তবে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর মতে, সুযোগ দেওয়ার নামে যদি শুধু ঠিকাদারদের মধ্যে ‘হাতবদল’ হয়, তাহলে দেশ ও জনগণ লাভবান হবে না।
তিনি সরকারি কেনাকাটায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগকে ইতিবাচক বলেও উল্লেখ করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক