ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮

বাংলা কিউআরের দাপট, মার্চেন্ট ৩৭ লাখ ছাড়াল; শীর্ষে বিকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১:২৭, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৯, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলা কিউআরের দাপট, মার্চেন্ট ৩৭ লাখ ছাড়াল; শীর্ষে বিকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:দেশে ‘বাংলা কিউআর’ কোডের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। গত জুলাইয়ে লেনদেনে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার পর বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান দেশজুড়ে ৩৭ লাখের বেশি মার্চেন্টের কাছে এ কিউআর কোড স্থাপন করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে বাংলা কিউআর মার্চেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ লাখ ৫৩ হাজার। এসব কিউআর কোডের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩২ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে।

বাংলা কিউআর চালুর ফলে গ্রাহকের জন্য পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ আরও সহজ হচ্ছে। একই সঙ্গে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মার্চেন্ট সংখ্যায় এগিয়ে বিকাশ

বাংলা কিউআর মার্চেন্টের সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ। প্রতিষ্ঠানটির বাংলা কিউআর মার্চেন্টের সংখ্যা ৮ লাখ ৫ হাজার ৩৫৭।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পূবালী ব্যাংক। ব্যাংকটির বাংলা কিউআর মার্চেন্টের সংখ্যা ৪ লাখ ২৭ হাজার ৬৬৩। ৩ লাখের বেশি মার্চেন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। ব্যাংকটির স্থাপিত বাংলা কিউআর কোডের সংখ্যা ৩ লাখ ১১ হাজার ৯৩৭।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে সোনালী ব্যাংক। ব্যাংকটির মার্চেন্ট সংখ্যা ২ লাখ ৭২ হাজার ৫০৭। ২ লাখ ৬৮ হাজার ৩টি মার্চেন্ট নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক।

এ ছাড়া ট্যালি পে ২ লাখ ৬ হাজার ১৮৯টি, রূপালী ব্যাংক ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩৫টি, রকেট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬২৫টি, জনতা ব্যাংক ১ লাখ ২১ হাজার ২০৯টি, সেবা ফিনটেক লিমিটেড ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৮টি এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ১ লাখ ১১ হাজার ৮৩৯টি বাংলা কিউআর কোড স্থাপন করেছে।

এক মার্চেন্টে একাধিক কিউআর

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে লেনদেনে বাংলা কিউআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব কিউআর কোডের পরিবর্তে মার্চেন্টদের কাছে বাংলা কিউআর স্থাপন করছে।

একই মার্চেন্টের ব্যাংক বা এমএফএস হিসাবের বিপরীতে একাধিক প্রতিষ্ঠান চার-পাঁচটি পর্যন্ত বাংলা কিউআর কোড দিয়েছে। এতে দেশজুড়ে বাংলা কিউআর মার্চেন্টের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।

গ্রামাঞ্চলের ছোট দোকান থেকে শুরু করে বড় ব্যবসা ও সেবা প্রতিষ্ঠানও এই ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। এর ফলে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি যেমন বাড়ছে, তেমনি প্রচলিত এমএফএস এজেন্টনির্ভর নগদ লেনদেন ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব পড়ছে।

অক্টোবরে মার্চেন্টদের জন্য বাড়তি সুবিধা

বাংলা কিউআর ব্যবহারে মার্চেন্টদের জন্য আরও একটি সুবিধা আসছে আগামী অক্টোবর থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণে বিক্রেতাদের খরচ শূন্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ মার্চেন্টরা গ্রাহকের কাছ থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে নগদ অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো মাশুল দেবেন না।

অন্যদিকে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো এমএফএসের এজেন্ট থেকে নগদ অর্থ তুলতে গ্রাহককে নির্দিষ্ট হারে ফি দিতে হয়। ফলে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে মার্চেন্টের কাছ থেকে নগদ অর্থ নেওয়া গ্রাহকের জন্য তুলনামূলক সুবিধাজনক হয়ে উঠতে পারে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এর ফলে বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেন আরও বাড়তে পারে। তবে একই সঙ্গে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রচলিত এজেন্টনির্ভর ব্যবসায়িক মডেলের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

কর সুবিধাতেও বাড়তে পারে আগ্রহ

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কোম্পানির লেনদেনের ক্ষেত্রে সম্প্রতি ছাড় দিয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় বছরে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিকে টার্নওভার কর দিতে হবে না।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এই সুবিধার কারণে অনেক মার্চেন্ট বাংলা কিউআরের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ ও নগদে পরিশোধের ক্ষেত্রে করসংক্রান্ত জটিলতার আশঙ্কা কম মনে করতে পারেন।

সব মিলিয়ে, মার্চেন্টের দ্রুত বিস্তার, লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং অক্টোবর থেকে সম্ভাব্য শূন্য মাশুল—এই তিন কারণে দেশে বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেন আরও দ্রুত বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন