ব্যাংকার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৮:১৫, ৫ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৮:১৫, ৫ জুন ২০২৬
শিপিং শিল্প বিষয়ক সাময়িকী লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুসারে, এক মাসের ব্যবধানে ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে রফতানি কমেছে ৮৪ শতাংশ। খবর আল জাজিরা।
সাময়িকীটি আরও জানিয়েছে, এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত পূর্ববর্তী ১২ মাসের গড় রফতানির তুলনায় মে মাসে ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি ৮৭ শতাংশ কম ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান বর্তমানে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের ট্যাংকার ব্যবহার করছে। কারণ বৃহৎ আকারের ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) ট্যাংকারগুলোর মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
গত ২ মার্চ ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ কার্যকরের ঘোষণা দেয়। এর কয়েক সপ্তাহ পর ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর শুরু করে মার্কিন বাহিনী।
এ অচলাবস্থার কারণে শত শত জাহাজ প্রণালির দুই পাশে আটকে আছে। বিশ্বের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়ে। যার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনও জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত তথ্যের বরাতে বলা হয়, ইরানের জ্বালানি তেল রফতানি গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে লেবাননে যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে—এমন আশায় সর্বশেষ লেনদেন বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে।
অবশ্য বাস্তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির খুব কম প্রমাণ মিলেছে। যদিও মার্চের শেষ দিক থেকে ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন যে একটি চুক্তি খুব কাছাকাছি।
চুক্তির জন্য একাধিক শর্ত দিয়েছে তেহরান। এতে রয়েছে তাদের আটকে থাকা শত শত কোটি ডলারের জ্বালানি তেল আয় ব্যবহারের সুযোগ, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে কৌশলগত প্রভাব বজায় রাখার সুযোগ।
এএ
ব্যাংকার প্রতিবেদন