ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

২৮ আশ্বিন ১৪৩৩, ০১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ সরবরাহে কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই: বিএসসিপিএলসি

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৯:৫৪, ১২ মে ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৫৪, ১২ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ সরবরাহে কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই: বিএসসিপিএলসি

আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ সরবরাহে কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)। দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইডথ চাহিদা পূরণে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

মঙ্গলবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যম সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য ব্যান্ডউইডথ ঘাটতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিএসসিপিএল জানায়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিএসসিপিএলসি বর্তমানে ৭ হাজার ২০০ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) সক্ষমতার দু’টি ট্রাস্টেড সাবমেরিন ক্যাবল এসইএ-এমই-ডব্লিউ-৪ এবং এসইএ-এমই-ডব্লিউ-৫ পরিচালনা করছে। ৭ হাজার ২০০ জিবিপিএস সক্ষমতার মধ্যে মাত্র ১০০ জিবিপিএস লোহিত সাগর হয়ে যায়, যা মোট সক্ষমতার মাত্র ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ক্যাবলের সংযোগ নেই। অবশিষ্ট ৭ হাজার ১০০ জিবিপিএসের মধ্যে সিঙ্গাপুরে ৬ হাজার জিবিপিএস এবং চেন্নাইয়ে ১ হাজার ১০০ জিবিপিএস সংযোগ রয়েছে, যা হরমুজ বা বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নির্ভরশীল নয়। 

ফলে ‘হুতি বিদ্রোহী বা ইরানের আঘাতে বাংলাদেশ ডিজিটাল অন্ধকারে পড়তে পারে’ এমন প্রচারণা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিএসসিপিএলসি আরো জানায়, এসইএ-এমই-ডব্লিউ-৫ ক্যাবলের সক্ষমতা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে কিছু গণমাধ্যমে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। বর্তমানে এই ক্যাবলের লিট-আপ ক্যাপাসিটি ২ হাজার ২০০ জিবিপিএস। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৮৮ জিবিপিএস ব্যবহৃত হচ্ছে। অর্থাৎ এখনো ৭১২ জিবিপিএস অব্যবহৃত সক্ষমতা রয়েছে। ক্যাবলটির আয়ুষ্কাল ২০৩৭ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।

অন্যদিকে এসইএ-এমই-ডব্লিউ-৪ -এর সক্ষমতা ৪ হাজার ৬৫০ জিবিপিএস এবং এর মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৫৯৫ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করা হচ্ছে। কনসোর্টিয়াম কর্তৃক এর আয়ুষ্কাল ২০৩০ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে বলেও জানানো হয়।

দেশের ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা বিবেচনায় ইতোমধ্যে আরো একটি ক্যাবল বাস্তবায়ন করছে বিএসসিপিএলসি। ২০২৭ সালের শুরুতে এটি চালু হলে কক্সবাজার-সিঙ্গাপুর এবং কক্সবাজার-মুম্বাই প্রান্তে প্রায় ১৫ হাজার জিবিপিএস করে মোট ৩০ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা মিলবে। এর ফলে ২০২৭ সালের মধ্যে রাষ্ট্রীয় সাবমেরিন ক্যাবলগুলোর মোট সক্ষমতা দাঁড়াবে প্রায় ৩৮ হাজার জিবিপিএস।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সকল অপারেটর, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং সচেতন নাগরিকদের বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে জাতীয় তথ্য অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বিএসসিপিএলসি।

এএ

ব্যাংকার প্রতিবেদন

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন