ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

৪ কার্তিক ১৪৩৩, ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

টাকা ছাপিয়ে ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে সরকার, এ ধারণা সঠিক নয়: অর্থমন্ত্রী

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২২:৪৩, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২২:৪৩, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

টাকা ছাপিয়ে ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে সরকার, এ ধারণা সঠিক নয়: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে, সেটিকে পুনরুজ্জীবিত করা যেকোনো সরকারের জন্যই কঠিন কাজ বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

তিনি বলেন, এ ধরনের অর্থনীতির কারণে দেশের সম্পদ অলিগার্কদের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। অতীতে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে কিছু লোকের হাতে বিপুল অর্থ তুলে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসা সহজ নয়। তবে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে দারিদ্র্যের হার ধীরে ধীরে কমছে। তবে অনেক ব্যবসায়ী এখনো কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং ব্যাংকঋণ পরিশোধেও সমস্যায় পড়ছেন। অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

আগামী বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জোর দেওয়া হচ্ছে। শুধু ঘরে ঘরে বিএ, এমএ ডিগ্রি অর্জন করলেই হবে না, বাস্তবমুখী দক্ষতা বাড়াতে হবে। এ জন্য ভোকেশনাল শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার টাকা ছাপিয়ে ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে- এ ধারণা সঠিক নয়। ভুল তথ্যের কারণে দেশের ক্রেডিট রেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়া একটি নিয়মিত বিষয়। তিনি জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের ব্যাংক ঋণ ছিল ১৭ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা, যা ২২ এপ্রিল কমে ১১ হাজার ৭২২ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

সভায় অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ইআরএফ-এর পক্ষ থেকে ২১ দফা বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি দৌলত আকতার মালা। 

এসময় সংগঠনের সহসভাপতি আশরাফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, অর্থসম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা প্রস্তাবনার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

অর্থসচিব বলেন, পণ্য রপ্তানি না করে প্রণোদনা নেওয়ার সুযোগ আর থাকবে না। এক্রুয়াল ভিত্তিক বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে, তবে এটি সম্পন্ন করতে সময় লাগবে। পাশাপাশি জিডিপি-কর অনুপাত বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে জোর দেওয়া হয়েছে। বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু এবং পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে। এজন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র হালনাগাদের কাজ চলছে।

এএ

ব্যাংকার প্রতিবেদন

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন