ঢাকা, রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৭ রবিউস সানি ১৪৪৮

বিডিবিএলে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের চাঁদা সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২২:৪৩, ৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২২:৫৪, ৯ জুন ২০২৬

বিডিবিএলে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের চাঁদা সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন

রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি (বিডিবিএল)-এ সর্বজনীন পেনশন স্কিমের চাঁদা সংগ্রহ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বিডিবিএল’র বোর্ডরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যাংকের সারাদেশের সব শাখার কর্মকর্তারা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

দেশের নাগরিকদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধন ও মাসিক চাঁদা সংগ্রহের লক্ষ্যে বিডিবিএল ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সমন্বয় ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করে সেবাটি চালু করা হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, ২০২৩ সালের আগস্টে চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশন স্কিম ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী সব নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত। বেসরকারি চাকরিজীবী, কৃষক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এ স্কিমে অংশ নিতে পারবেন।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি টেকসই পেনশন ব্যবস্থা অপরিহার্য। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত, যাদের অধিকাংশই কোনো পেনশন সুবিধার আওতায় নেই। সর্বজনীন পেনশন স্কিমের মাধ্যমে এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের চারটি স্কিম- প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এতে মাসিক ১ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা জমার সুযোগ রয়েছে এবং চাঁদা ও মেয়াদের ভিত্তিতে পেনশন সুবিধা নির্ধারিত হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রম সম্প্রসারণে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহজশর্তের ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজন সদস্যকে কোনো না কোনো পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এসময় শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। পাশাপাশি নমিনিদের আজীবন পেনশন সুবিধা প্রদানের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. জসীম উদ্দিন বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ব্যাংকের অংশগ্রহণ দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ব্যাংকের বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের আরও বেশি মানুষের কাছে এ সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ব্যাংকের সব শাখার কর্মকর্তাদের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিমের নিবন্ধন, চাঁদা সংগ্রহ ও সফটওয়্যার ব্যবহারের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এএ

ব্যাংকার প্রতিবেদন

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন