ব্যাংকার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২২:৩৯, ২৭ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ২২:৪২, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দীর্ঘদিন ঢেকে রাখা ব্যাংক খাতের গোপন রোগ এখন একে একে প্রকাশ্যে আসছে। শরীরে (ব্যাংকের) যে এত রোগ তা আগে জানা-ই যায়নি।
ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি, পুঁজি ঘাটতিসহ সব সংকট একে একে সামনে আসায় আর্থিক স্থিতিশীলতা বড় ঝুঁকিতে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ‘অর্থনৈতিক সাংবাদিকতা’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা ও সংস্কারহীনতার সমালোচনা করে দেবপ্রিয় বলেন, একসঙ্গে ধরা পড়া এসব দুর্বলতা বাংলাদেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা অর্থনীতির পথ রুদ্ধ করছে। একই সঙ্গে সংস্কার ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আনা স্বপ্নের মতো বলেও জানান তিনি।
ড. দেবপ্রিয় ব্যাংকিং খাতের সমস্যার সমাধানে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা, প্রশাসক নিয়োগ বা কিছু নিয়ম আগের অবস্থায় ফেরানো- এসবের বাইরে সুশাসন নিশ্চিত করতে কী করা হয়েছে?
বন্দর ব্যবস্থাপনা ও বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ড. দেবপ্রিয় জানান, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বন্দর ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন জরুরি হলেও বিদেশি বিনিয়োগ ঘোষণায় তড়িঘড়ি করা হয়েছে। আগের সরকারের সময় যেসব বৈষম্যমূলক চুক্তি হয়েছে, সেগুলোর স্বচ্ছতা না থাকায় মানুষের সন্দেহ আরও বেড়েছে।
নীতি সুদহার প্রসঙ্গে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল, তবে সংকোচনমূলক নীতি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমিয়েছে। এখন স্থিতিশীলতা থেকে প্রবৃদ্ধির দিকে যাওয়ার সময় হলেও জ্বালানি, গ্যাস, ব্যাংকিং খাতের তারল্য ও ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা-এসব বড় সংস্কার পিছিয়ে আছে।
কেবল চাহিদা ব্যবস্থাপনা নয়, সরবরাহের দিকেও সমর্থন দরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা পায়নি বলে মন্তব্য করেন এই অর্থনীতি বিশ্লেষক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক ও ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি শামসুল হক জাহিদ, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুল হক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সচিব, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ ও শিশুসাহিত্যিক ফারুক হোসেন।
নিউজ পোর্টাল অর্থসূচক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বইটি প্রকাশ করেছে চন্দ্রাবতী একাডেমি। এটি সম্পাদনা করেছেন অর্থসূচকের সম্পাদক জিয়াউর রহমান।
এএ
ব্যাংকার প্রতিবেদন