ঢাকা, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

১ চৈত্র ১৪৩২, ২৬ রমজান ১৪৪৭

ক্রেডিট কার্ড পরিচালনায় নতুন নির্দেশিকা জারি

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২২:৩৯, ১৫ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২২:৪০, ১৫ মার্চ ২০২৬

ক্রেডিট কার্ড পরিচালনায় নতুন নির্দেশিকা জারি

দেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের দ্রুত বিস্তার এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রসারকে সুশৃঙ্খল করতে ব্যাংকগুলোর জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (১৫ মার্চ) জারি করা ব্যাংকিং প্রবিধান ও নীতি বিভাগ-১ (বিআরপিডি-১) এর সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, গ্রাহকদের সুবিধার চাহিদা এবং ইলেকট্রনিক পেমেন্ট অবকাঠামোর সম্প্রসারণের ফলে বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ডকে পেমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সার্কুলারে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও অনুমোদিত ক্রেডিট কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে নতুন নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একটি নিরাপদ ও দক্ষ ডিজিটাল পেমেন্ট পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, অনিরাপদ ক্রেডিট কার্ড ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তার বেশি অর্থায়নের ক্ষেত্রে তরল জামানতের বিপরীতে অর্থায়ন করা যাবে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই মোট সীমা ৪০ লাখ টাকার বেশি হবে না।

ব্যাংকগুলোকে ক্রেডিট সীমা নির্ধারণের আগে গ্রাহকের আয়, ঋণের বোঝা এবং আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান কার্ডধারীর একাধিক ব্যাংকের কার্ড থাকলে তার মোট ঋণসীমা বিবেচনায় নিতে হবে।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, ক্রেডিট কার্ডের বার্ষিক কার্যকর সুদের হার সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশের বেশি হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করলে গ্রাহক সুদমুক্ত সময় সুবিধা পাবেন। এছাড়া সুদের হার, চার্জ ও ফি সম্পর্কে গ্রাহকদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

গ্রাহক সুরক্ষার বিষয়ে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া কোনো ক্রেডিট কার্ড ইস্যু বা ক্রেডিট সীমা বৃদ্ধি করা যাবে না। নতুন কার্ড চালুর আগে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) ভিত্তিক যাচাই করতে হবে এবং কার্ড হারানো বা জালিয়াতির ঘটনা জানানো হলে তাৎক্ষণিকভাবে কার্ড ব্লক করতে হবে।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত সব লেনদেনে দুই স্তরের নিরাপত্তা যাচাই, তাৎক্ষণিক এসএমএস ও ই-মেইল সতর্কবার্তা এবং জালিয়াতি প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, গ্রাহকদের সুবিধা, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দ্রুত সম্প্রসারিত পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) অবকাঠামো এবং বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচির কারণে দেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা, সুষ্ঠু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছ নগদবিহীন লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এ নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকার মাধ্যমে দেশে ক্রেডিট কার্ড ইস্যু ও অধিগ্রহণ কার্যক্রমে যুক্ত সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য একটি সমন্বিত ও আধুনিক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এএ

 

ব্যাংকার প্রতিবেদন

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন