ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৬ ফাল্গুন ১৪৩২, ০১ রমজান ১৪৪৭

এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে নতুন সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৭:২৭, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৭:২৮, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে নতুন সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

নতুন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেবে নতুন সরকার। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথমদিনের অফিস করতে এসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করতে চায় এবং এ লক্ষ্যে যা যা করা দরকার, তার সবই করা হবে। তার ভাষায়, বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করা হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রথম সপ্তাহেই চিঠি দিতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও সরকার আজ থেকেই এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে।

রপ্তানির সাম্প্রতিক নিম্নগতি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো অত্যন্ত সংকীর্ণ। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই একটি মাত্র পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে যারা ব্যবসা ও বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে চান, তাদের যথাযথ সহায়তা দেওয়াও সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে খুব সীমিত সুযোগ নিয়ে টিকে আছে। তার মতে, দেশের মার্জিন অব এরোর খুবই কম, ভুল করার সুযোগ নেই। তাই গত কয়েক মাসে যে মন্থর গতি দেখা গেছে, সেখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে সরকার কাজ শুরু করবে।

রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারও স্থিতিশীল থাকবে। রমজান মাস এবং এর পরবর্তী সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ সরকারের হাতে রয়েছে এবং পাইপলাইনেও পর্যাপ্ত পণ্য আছে। এ কারণে বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রমজান এলেই বাজারে সিন্ডিকেটের প্রসঙ্গ সামনে আসে—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান তিনি শুধু বক্তব্য দিতে চান না, কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।”

রমজানের শুরুতে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি অনেক ক্ষেত্রে এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। মানুষ সাধারণত পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে করে, ফলে হঠাৎ করে ভোগ বাড়ে এবং এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে। তবে এ প্রভাব খুব বেশি সময় স্থায়ী হয় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে কোনো বিনিয়োগ আসে না। বিনিয়োগের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো একটি স্থিতিশীল পরিবেশ। বিনিয়োগকারীরা তখনই বিনিয়োগ করেন, যখন তারা নিশ্চিত হন যে তাদের পুঁজি ও শ্রমের বিপরীতে প্রত্যাশিত রিটার্ন পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে বড় একটি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। গত দুই থেকে তিন বছর ধরে বিনিয়োগ স্থবির থাকাটা দেশের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে না পারলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই রমজান মাস শুরু হওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রমজান সামাল দেওয়াটাই এখন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে সরকারকে সফল হতেই হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং দেশের স্বার্থের বিষয়। এ কাজে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান। ভুল হলে তা ধরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

এএ

ব্যাংকার প্রতিবেদন

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন