ঢাকা, রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২ ফাল্গুন ১৪৩২, ২৬ শা'বান ১৪৪৭

বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ আমাদের কাছে প্রথম: তারেক রহমান

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২২:২৬, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২২:২৬, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ আমাদের কাছে প্রথম: তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ আমাদের কাছে প্রথম। তার সরকারের পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ আমাদের কাছে প্রথম। বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থ ঠিক রেখে আমরা আমাদের ফরেন পলিসি ডিসাইড করব।’

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যান একজন বিদেশি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি অনুসরণ করে দ্য প্রিন্সিপাল অব মাল্টিলেটারিজম। উই ডোন্ট হ্যাভ অ্যানি কান্ট্রি সেন্ট্রিক পলিসি অ্যাজ সাচ। সো আওয়ার পলিসি অ্যাপ্লাইজড টু অ্যানাদার কান্ট্রি অব দ্য ওয়ার্ল্ড দিস ইজ ফর মিউচুয়াল রেসপেক্ট, মিউচুয়াল ইন্টারেস্ট, নান অব ইন্টারফেয়ারেন্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অটোনোমি  ফর—বাংলাদেশে এটা হচ্ছে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি।’

আইসিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা বিচার বিভাগের বিষয়। অব কোর্স উই লাক টু জুডিশিয়ারি সেপারেট ফর্ম এক্সিকিউটিভ ফাংশন অ্যান্ড লেজিসলেটিভ ফাংশন।

গত সরকার চলে যাওয়ার পর থেকে আপনি বলে আসছেন যে, এই নির্বাচনটা খুব সহজ হবে না। এখন নির্বাচনটা হয়ে গেল, এটা আপনার কাছে সহজ ছিল কি না আপনার কাছে? আর ২ শতাধিক আসন পাওয়ার জন্য আপনাকে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং করতে হলো কি না?

এই প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের জনগণকে কনভিন্স করাটাই হচ্ছে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। আমাদের যে ইঞ্জিনিয়ারিংটা ছিল জনগণকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসা, সেটাতে আলহামদুলিল্লাহ আমরা সফল হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘জনগণকে কনভিন্স করে একটি সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশ এনসিউর করাটাই ছিল আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর। অর্থাৎ, যেটা আমি বলেছিলাম— কঠিন হবে কি না, যেকোনো ভালো কাজের গোল অ্যাচিভ করতে গেলে তো কষ্ট করতে হবে, কঠিন হবেই।’

ভারত-পাকিস্তান-চীনের সাথে আপনাদের সরকারের সম্পর্ক কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আই অলরেডি অ্যানসার দিস। তারপরও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাহেবকে বলতে বলছি।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্র নীতি ইতোমধ্যে আমি বলেছি। দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে আমাদের পলিসি হবে।’

সরকারের অগ্রাধিকার চ্যালেঞ্জগুলোর ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের কাছে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে, সেগুলো হচ্ছে— অর্থনীতিকে সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা, অবশ্যই আমাদের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আপনি জানেন যে, গত রেজিম— তারা দেশে সকল প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করেছে। সেজন্য আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করব। এগুলো আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি এবং এগুলোকে উই নিড টু টেকেল।’

যুবকদের জন্য আপনার পরিকল্পনা কী? জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা জনগণের রায় পেয়েছি। অবশ্যই যুবকরা আছেন, তবে সমাজের আরো শ্রেণি-পেশার মানুষ আছেন। আমরা সকলের বিষয়ে অ্যাড্রেস করব। আমরা ইতোমধ্যে আমাদের দলের মেনিফেস্টো প্রকাশ করেছি, সেখানে সকল বিষয়ে আমরা অ্যাড্রেস করেছি— যুবকদের জন্য কী করব, আমরা নারীদের জন্য কী করব, আমরা ডিজ-এবল পিপলসের জন্য কী করব, সব কিছু সেখানে (ইশতেহারে) আছে।’

দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতা ফোরাম এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিএনপি কী করবে এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমানের উত্তর, ‘ইয়েস আপনি জানেন, সার্ক গঠন হয়েছিল বাংলাদেশের উদ্যোগে। স্বাভাবিকভাবে আমরা সার্ক সক্রিয় করতে চাই। এই বিষয়ে আমরা আলাপ করব।’

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক কেমন হবে জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, ‘ডেফিনেটলি উই উইল ট্রাই টু প্রোটেক্ট ইন্টারেস্ট অব পিপল অব বাংলাদেশ, আমাদের দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে আমরা সকল দেশের সাথে সম্পর্ক গড়ব। আই অ্যাম সিউর মিউচুয়াল ইন্টারেস্ট ইজ দ্য ফাস্ট প্রায়োরিটি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওয়েল, আমাদের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চাইনিজ বন্ধুরা আছেন। আমরা আশা করি, দুই দেশ সামনের দিনগুলোতে আরো নিবিড়ভাবে একসঙ্গে কাজ করবে।

দেশের অর্থনীতি সচল কীভাবে হবে জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, ‘টু ব্রিং মোর বিজনেসেস অ্যান্ড ক্রিয়েট মোর জবস।’

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি রোধে কী ধরনের আইন প্রয়োগ হবে এমন  প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, আইন সবার জন্য সমান। আইন যদি সবার জন্য সমান হয়ে থাকে, আমরা ইনশাআল্লাহ সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসার পরে চেষ্টা করব, আইন যাতে আইনের মতো করে চলে। সেটাই আমাদের পজিশন।

আওয়ামী লীগের বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘বাই এনসিউরিং রুল অব ল।’

বিগত সরকারের সময়ে লুটপাট ও পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে আপনার পরিকল্পনা কী? তারেক রহমান বলেন, ‘আপনি যদি আমাদের ইশতেহার দেখেন, সেখানে আপনার এই প্রশ্নের জবাবগুলো আপনি সুন্দরভাবে পাবেন। আমি ইশতেহারে বলেছি যে, গণতান্ত্রিক অর্থনীতি। অর্থাৎ, আমরা এমন একটি অর্থনীতির সূচনা করতে চাই, যেখানে সবাই সবার যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবেন। কোনো একটি বিশেষ মহলকে আমরা সুযোগ দিতে চাই না।’

সংবাদ সম্মেলনে আল-জাজিরা, বিবিসি, এবিসি-সহ চীন, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাবলীলভাবে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মঞ্চে তারেক রহমানের পাশে ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তারেক রহমান তার দলকে সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী করার জন্য দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। এরপর প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।

 

ব্যাংকার প্রতিবেদন

আরও পড়ুন