ঢাকা, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

২৬ ফাল্গুন ১৪৩২, ২১ রমজান ১৪৪৭

৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল চায় রিহ্যাব

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২২:২০, ১০ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২২:২১, ১০ মার্চ ২০২৬

৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল চায় রিহ্যাব

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রভাব মোকাবিলা এবং আবাসন খাতের নির্মাণ কার্যক্রম সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তিন হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল সহায়তা চেয়েছে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। একই সঙ্গে গৃহঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান রিহ্যাবের সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব দেশের আবাসন খাতেও পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে খাতটিকে সক্রিয় রাখতে বিশেষ তহবিলের প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তিন হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের আবেদন করা হয়েছে। গভর্নর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন এবং ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

রিহ্যাব সভাপতি আরও বলেন, খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান মানুষের মৌলিক চাহিদা। কিন্তু বর্তমানে গৃহঋণের সুদের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেক সাধারণ মানুষের পক্ষে বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই গৃহঋণের সুদের হার এক অঙ্কের মধ্যে নামিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বৈঠকে রিহ্যাব আরও কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ প্রকল্পে বিশেষ অর্থায়নের সুবিধা দেওয়া। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা শহরে আবাসন প্রকল্পে বিশেষ অর্থায়ন এবং ঢাকার ওপর চাপ কমাতে এসব এলাকায় কম সুদে গৃহঋণ সুবিধা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

রিহ্যাবের মতে, আবাসন খাত দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত, যার সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৫০টির বেশি শিল্প খাত জড়িত। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকায় আবাসন বা নির্মাণ খাতকে অনুৎপাদনশীল খাত হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে এবং এখানে শ্রমিক অসন্তোষও নেই। তাই আবাসন খাতকে উৎপাদনশীল খাত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

রিহ্যাব মনে করে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে আবাসন খাত আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা সহজ হবে। একই সঙ্গে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও।

এএ

ব্যাংকার প্রতিবেদন

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন