ঢাকা, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২৬ মাঘ ১৪৩২, ২০ শা'বান ১৪৪৭

জাহাজ নির্মাণ শিল্পে পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আবেদন সময়সীমা বাড়ল

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২২:৫৩, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২৩:০১, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জাহাজ নির্মাণ শিল্পে পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আবেদন সময়সীমা বাড়ল

দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সহায়তার লক্ষ্যে নির্ধারিত ২ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ব্যাংকগুলোর আবেদন করার সময়সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) জারি করা এক সার্কুলারে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, এ স্কিমের আওতায় পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার জন্য তফসিলি ব্যাংকগুলোর আবেদন করার শেষ সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা জোরদারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের (বিআরপিডি) সার্কুলার লেটার নং-০৪ এ বলা হয়, ‘শিপবিল্ডিং শিল্পের উন্নয়ন, পরিচালনা ও বিকাশে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’-এর সময়সীমায় গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে। এর আগে এই স্কিমে ব্যাংকগুলোর আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৩০ জুন ২০২৪।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উচ্চ সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

স্কিমের নির্দেশিকার ৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের যোগ্য। পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিতে আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট-৩ (বিআরপিডি-৩)-এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ চুক্তি সই করতে হবে। 

কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো নিজস্ব নীতিমালা ও ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে ঋণ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেবে।

তবে এই স্কিমের আওতায় কোনো ঋণ অনুমোদনের আগে তহবিলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বিআরপিডি-৩ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এ জন্য ব্যাংককে ঋণ বিতরণ ও পরিশোধের বিস্তারিত সময়সূচি আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রাহকদের পর্যায়ক্রমে ঋণ বিতরণ করতে হবে। গ্রাহককে ঋণ বিতরণের পরই ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়নের দাবি করতে পারবে। দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে তারল্য ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে অন্তর্বর্তী কিস্তির বিপরীতেও পুনঃঅর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এছাড়া, ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী উইন্ডো থাকা প্রচলিত ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শরিয়াহভিত্তিক অর্থায়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সার্কুলারের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠান বিআরপিডি-৩ কর্তৃক অনুমোদিত শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতিতে এই স্কিমের আওতায় অর্থায়ন করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ২০২২ সালের মে মাসে জারি করা মূল সার্কুলারে উল্লেখিত অন্যান্য সব শর্ত ও নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৬ মে বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৯ এর মাধ্যমে ২ হাজার কোটি টাকার এই পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ (বিআরপিডি-১) সর্বশেষ নির্দেশনা জারি করে জানায়, বর্ধিত সময়সীমার ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পে ঋণ সহায়তা আরও কার্যকরভাবে দিতে পারবে।

এএ

ব্যাংকার প্রতিবেদন

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন