ঢাকা, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২৪ মাঘ ১৪৩২, ১৮ শা'বান ১৪৪৭

যুক্তরাষ্ট্রে ১২.৪৩ শতাংশ বেড়েছে বাংলাদেশী পোশাক রপ্তানি

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৯:০৫, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৯:০৫, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ১২.৪৩ শতাংশ বেড়েছে বাংলাদেশী পোশাক রপ্তানি

বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক একক বাজার হিসেবে সবচেয়ে বেশি রফতানি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটি গত বছরে ডিসেম্বর ব্যতীত বাকি এগারো মাস বাংলাদেশ থেকে ৭৬০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের পোশাকপণ্য আমদানি করেছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলসের (ওটিইএক্সএ) এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৭৬০ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগের বছর একই সময়ে আমদানির অর্থমূল্য ছিল ৬৭৬ কোটি ২৪ লাখ ২০ হাজার ডলার।

পরিসংখ্যানে আরো দেখা যায়, ২০২৫ সালের ওই এগারো মাসে যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৭ হাজার ১৯০ কোটি ৩০ লাখ ৭০ হাজার ডলার মূল্যের পোশাক আমদানি করেছে। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি কমেছে ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

প্রবৃদ্ধিতে ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে এগিয়ে বাংলাদেশ। তবে অর্থমূল্য বিবেচনায় ভিয়েতনাম থেকে আমদানি সবচেয়ে বেশি। দেশটি থেকে ১ হাজার ৫৩৪ কোটি ৭ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্রে। যা আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ভারত থেকে আমদানি বেড়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ, যার অর্থমূল্য ৪৬৩ কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

এ সময়ে কম্বোডিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি ২৬ দশমিক ১৮ শতাংশ আমদানি বেড়েছে। আমদানি হয়েছে ৪৩৯ কোটি ১৩ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পোশাক। চীন থেকে আমদানির হার কমেছে ৩৩ দশমিক ৯০ শতাংশ। দেশটি থেকে আমদানীকৃত পোশাকের অর্থমূল্য ১ হাজার ৬ কোটি ৭৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক ক্রয়ের শীর্ষ ৯ উৎসের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান থেকেও তৈরি পোশাক আমদানি বেড়েছে। এ ৯ দেশের মধ্যে প্রবৃদ্ধিতে দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ।

মাসভিত্তিক তুলনায় গত বছরে শুধু নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র তৈরি পোশাক আমদানি করেছে ৫২৭ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার ডলারের। এর আগের বছরে এ মাসে দেশটি আমদানি করে ৫৯১ কোটি ৫৫ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পোশাক। তুলনামূলক বিবেচনায় ওই সময়ে আমদানি কমেছে ১০ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

নভেম্বরে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করেছে ৫২ কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার ডলারের তৈরি পোশাক। আগের বছর একই মাসে বাংলাদেশ থেকে ৬১ কোটি ৬২ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পোশাক আমদানি করেছিল দেশটি।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘বছরের প্রথমদিকে আমাদের প্রবৃদ্ধি ১৮-২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছিল। কিন্তু শেষ দুই মাসে আমাদের প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে যায়। যার প্রভাব পুরো বছরের প্রবৃদ্ধিতে পড়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতিতে পরিবর্তনের প্রভাবও এর মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘তাদের স্টক শেষ হওয়ার পথে, ফলে তারা নতুন অর্ডার করবে বলে আশা করছি। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি আরেকটু উন্নত হলে পোশাক আমদানির পরিমাণ আরো বাড়বে। সামনে আমাদের জাতীয় নির্বাচনের পরও বেশকিছু পরিবর্তন আসবে বলে আমি আশাবাদী।’

এএ

ব্যাংকার প্রতিবেদন

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন