ব্যাংকার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১:৫৪, ৭ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫৪, ৭ মার্চ ২০২৬
গত এক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেক বেড়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এবারই এক সপ্তাহে তেলের দাম সবচেয়ে বেশি বাড়ল। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি রফতানি ও জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খবর রয়টার্স।
গত সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ২০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি পণ্যটির মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশ।
ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার ৯ সেন্ট বা ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়ে ৮৭ ডলার ৫০ সেন্টে পৌঁছায়। একই সময় ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার ৭৬ সেন্ট বা ৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৮৪ ডলার ৭৭ সেন্টে। জ্বালানি তেলের উভয় আদর্শের দাম ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সব জ্বালানি উৎপাদক দেশ রফতানি বন্ধ করে দিতে পারে। এমনটি হলে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি জানান, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সব দেশ জ্বালানি রফতানি বন্ধ করে দিতে পারে। এমনটি হলে বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
গত শনিবার ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর পর পরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট দৈনিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রগুলোয় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে অনেক শোধনাগার ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্লান্টও বন্ধ হয়ে গেছে।
ফিলিপ নোভার সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট প্রিয়াঙ্কা সচদেবা বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে কার্যক্রম বন্ধ থাকার দুটি বড় প্রভাব পড়বে। প্রথমত প্রতিদিন ২ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল মজুদ করার সুযোগ হারাবে বিশ্ব। দ্বিতীয়ত বিশ্ববাজারে এটি সরবরাহের ঘাটতি দেখা দেবে। এ দুই কারণে জ্বালানি পণ্যের দাম আরো বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’
রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। তিনি বলেন, ‘দাম যদি বাড়ে, তবে বাড়ুক। বর্তমানে (মধ্যপ্রাচ্যে) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানই আমার কাছে প্রধান অগ্রাধিকার।’
সরবরাহ সংকট কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ কিছু কোম্পানিকে বিশেষ ছাড় দিয়েছে। ফলে কোম্পানিগুলো রাশিয়ার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই ট্যাংকারে মজুদ থাকা রুশ তেল কিনতে পারবে। ভারতের রিফাইনারিগুলো এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল কেনা শুরু করেছে। এতে এশিয়ার বাজারে তেলের সরবরাহ সংকট কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এএ
ব্যাংকার প্রতিবেদন