ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২১ মাঘ ১৪৩২, ১৬ শা'বান ১৪৪৭

ঋণের সুদহার নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারবে হাউস বিল্ডিং ফিন্যান্স

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২১:৩০, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২১:৩০, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

ঋণের সুদহার নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারবে হাউস বিল্ডিং ফিন্যান্স

ঋণের সুদহার নির্ধারণে এখন আর সরকারের অনুমোদন নিতে হবে না বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফিন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি)কে। সংস্থাটি নিজেই সুদহার নির্ধারণ করতে পারবে। পাশাপাশি সরকারকে প্রতিবছর কী পরিমাণ মুনাফা দেবে, তাও ঠিক করতে পারবে সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি।

আইন সংশোধন করে এসব বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এত দিন প্রতিষ্ঠানটির ঋণের সুদহার নির্ধারণ করে দিত অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

গত বৃহস্পতিবার ‘দ্য বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফিন্যান্স করপোরেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়াতে অধ্যাদেশে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিএইচবিএফসি তুলনামূলক কম সুদে গৃহনির্মাণ ও আবাসন ঋণ দেয়, যা বর্তমানে ৮ থেকে ১০ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এত দিন সরকারকে লভ্যাংশ হিসেবে বিএইচবিএফসির নিট মুনাফার পুরোটা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। এখন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ মুনাফার পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারবে। ফলে মুনাফার যে অর্থ প্রতিষ্ঠানটির হাতে থাকবে, তা অবণ্টিত মুনাফা হিসেবে (রিটেইন্ড আর্নিং) সংস্থাটি নিজের কাছে রেখে দেবে, যাতে সেই অর্থে গ্রাহকদের আরও বেশি ঋণ দেওয়া যায়।

বিএইচবিএফসি এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। ঋণের সুবিধাভোগী ১০ লাখ ৫১ হাজার গ্রাহক। সংস্থাটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে জানিয়েছে, তারা কোনো ঋণ অবলোপন করেনি, মওকুফও করেনি এবং খেলাপি ঋণের হার এখন ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠানটির কোনো প্রভিশন ও মূলধন-ঘাটতি নেই। প্রচলিত ঋণের পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক ঋণ–সুবিধাও রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিলে তা ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।

বিএইচবিএফসি জানিয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮৪৬ কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুর করেছে তারা। তবে ঋণ দিয়েছে ৬৯৬ কোটি টাকা। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ২৮৯ কোটি টাকার মঞ্জুর করা হলেও ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৯১৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুরির বিপরীতে বিতরণ করা হয় ৯২২ কোটি টাকা। অর্থাৎ ওই অর্থবছরে টাকার অভাবে মঞ্জুরের পরও ৪১২ কোটি টাকার ঋণ দিতে পারেনি বিএইচবিএফসি।

বিএইচবিএফসি ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সব ধরনের ঋণের সুদ ১ শতাংশ করে বাড়িয়ে ৮ থেকে ১০ শতাংশ করেছিল, যা বর্তমানেও বহাল আছে।

এদিকে ‘দ্য বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফিন্যান্স করপোরেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদন হওয়ায় কিছুদিনের মধ্যেই তা গেজেট আকারে জারি হবে। এরপরই নতুন বিধানগুলো কার্যকর করা হবে।

উল্লেখ্য, ১১ ধরনের গৃহঋণ দেয় বিএইচবিএফসি। এসব ঋণের মধ্যে রয়েছে নগর বন্ধু, পল্লীমা, আবাসন উন্নয়ন, আবাসন মেরামত, প্রবাস বন্ধু, হাউজিং ইকুইপমেন্ট ঋণ, কৃষক আবাসন ঋণ, সরকারি কর্মচারী ঋণ, ফ্ল্যাট ঋণ, ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন ঋণ এবং স্বপ্ননীড় ঋণ।

এএ

ব্যাংকার প্রতিবেদন

আরও পড়ুন