ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৪ ফাল্গুন ১৪৩২, ২৮ শা'বান ১৪৪৭

উচ্চকক্ষে কোন দল কত আসন পাবে

ব্যাংকার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১১:০৩, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১১:০৩, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

উচ্চকক্ষে কোন দল কত আসন পাবে

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯০ আসনে প্রার্থী দিয়ে বিএনপি এককভাবে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বিএনপি জোট পেয়েছে ৫১ দশমিক ১ শতাংশ ভোট। ২২৭ আসনে প্রার্থী দিয়ে জামায়াতে ইসলামী ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট।

তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে ৩২ আসনে প্রার্থী দেওয়া জামায়াত জোটের শরিক এনসিপি। ২৫৭ আসনে প্রার্থী দেওয়া চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন পেয়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। ৩৪ আসনে প্রার্থী দেওয়া জামায়াত জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৩৪ আসনে প্রার্থী দিয়ে ২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। 

এই পাঁচটি দল বাদে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাকি ৪৫টি দলের কেউ ১ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। 

সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ আসনের সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন করতে হবে। সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠের অনুমোদন লাগবে। 

এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সম্মিলিত ভোট ৮৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। বাকিরা ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী উচ্চকক্ষে রাজনৈতিক দলকে অন্তত ১ শতাংশ ভোট পেতে হবে। স্বতন্ত্র ও বাকিদের ভোট বাদ যাবে এ হিসাব থেকে। এ হিসাবে বিএনপি উচ্চকক্ষে ৫৫ দশমিক ৭৮, জামায়াত ৩৫ দশমিক ৪৫, এনসিপি ৩ দশমিক ৪, ইসলামী আন্দোলন ৩ দশমিক শূন্য ১ এবং বাংলাদেশ খেলাফত ২ দশমিক ৩৩টি আসন পাবে।

এ হিসাবে উচ্চকক্ষে বিএনপি ৫৬, জামায়াত ৩৬, এনসিপি ৩, ইসলামী ৩ ও বাংলাদেশ খেলাফত দুটি আসন পাবে।

বর্তমানে সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত আসন বণ্টন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে। সেখানে যে দলের প্রাপ্ত আসনের ভগ্নাংশ সংখ্যা বড় হয়, তারা পূর্ণ আসন পায়। 

বিএনপি সংসদের আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন করতে চায়। এ হিসাব ধরলে, দলগুলো সংসদের প্রতি তিনটি আসনের জন্য উচ্চকক্ষে একটি আসন পাবে। তিনের কম আসন পাওয়ায় বাংলাদেশ খেলাফত ও ইসলামী আন্দোলন উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব পাবে না। উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব পাবে না একটি করে আসন পাওয়া গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বিজেপি ও খেলাফতের অপর অংশ।

জুলাই সনদের ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের ৩০টিতে সব দলের ঐকমত্য রয়েছে। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় এগুলোও বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক। গণভোটের প্রশ্নের প্রথম দুই ভাগের আট সংস্কারও বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক। তবে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্ট থাকা বাকি ১০টি সংস্কার প্রস্তাব গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলেও বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক নয়। এই শর্ত দিয়েই গণভোট হয়েছিল। 

সাবেক ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গণভোটের ব্যালটে বলা হয়েছে, প্রথম দুই ভাগের ৮টি এবং তৃতীয় ভাগের ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব বাধ্যতামূলক। বাকি ১০টি সংস্কার প্রস্তাব দলগুলোর নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা বা না করা যাবে। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় তাই ৩৮টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের রাজনৈতিক ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আর নির্বাচনের যে ফলাফল হয়েছে, তাতে জুলাই সনদ মেনেও বিএনপি উচ্চকক্ষে সংবিধান শোধনের মতো সংখ্যারিগষ্ঠতা পাবে। 

এএ

 

ব্যাংকার প্রতিবেদন

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন