মামুন রশীদ
প্রকাশ: ১০:৪১, ২২ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪১, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
নির্বাচন আসতে এখনও কিছুটা সময় রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যুতে এখনও ফোকাস করা গেলে নির্বাচনে সুবিধাজনক অবস্থান নিশ্চিত করা যায়। সেটি হতে পারে মূল্যস্ফীতি হ্রাস, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান কিংবা দুর্নীতি হ্রাসে একটি বিশ্বাসযোগ্য উদ্যোগ। শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কী অপরিসীম সম্ভাবনা বুকে ধারণ করে রয়েছে আমাদের দেশ! বিপুল তার রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও। এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আগামী জাতীয় নির্বাচন। তবে আমার মতো অনেকের কামনা, নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে সব রাজনৈতিক উৎকণ্ঠা দূর ও সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ এবং আসছে ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণ করবে নতুন সরকার।
এমন পরিস্থিতিতে আগামীতে অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারগুলো কেমন হতে পারে, তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করার দরকার এখনই। তর্কের সুযোগ কম যে, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিতকরণে বেসরকারি খাতে প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তির গতি বৃদ্ধিতে আগামীতে দেশি-বিদেশি আরও বিনিয়োগ আকর্ষণ, বিদ্যুৎ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান, জ্বালানি ও শক্তি খাতের সার্বিক উন্নয়ন, বন্দরগুলোয় সেবার মান ও আওতা বৃদ্ধি, দক্ষ কৃষিবিন্যাস প্রচলন, আঞ্চলিক সংযুক্তি সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অধিক সহায়তা প্রদান, মানানসই ব্যবস্থাপনা ও প্রাযুক্তিক শিক্ষার বিস্তার, নির্ভরযোগ্য জনস্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রভৃতি বিষয়ে মনোযোগ বাড়াতে হবে আমাদের। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশের শাসনভার যার হাতেই থাকুক, তার জন্য তো এসব ইস্যু আরও গুরুত্বপূর্ণ।
ভাড়া ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ-সম্পর্কিত বিতর্ক দূরে রেখেও বলা যায়, বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় শতভাগ বৃদ্ধিতে সক্ষম হয়েছে বিগত সরকার। তবে নিশ্চিত করে বলা যাবে না– এটিই বিদ্যুৎ সমস্যার টেকসই সমাধান। তার চেয়েও বড় কথা, আসছে বছরগুলোয় দেশে বিদ্যুৎ চাহিদা বেড়ে কত মেগাওয়াটে দাঁড়াবে; কোন খাত কী পরিমাণ বিদ্যুৎ পরিভোগ করবে, সেসব বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো পরিষ্কার চিত্র নেই। অথচ বেসরকারি খাতে শিল্প প্রবৃদ্ধির অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্যও হিসাবটি সম্পন্ন করা ও তদনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। নইলে প্রয়োজন অনুযায়ী একক ও বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প হাতে নেওয়া কঠিন হবে। আঞ্চলিক গ্রিড থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ আনার প্রচেষ্টায়ও সৃষ্টি হবে জটিলতা।
একটু তলিয়ে দেখলে বোঝা যাবে, আমাদের শক্তি-সংকট বিদ্যুতের চেয়ে গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি নিয়েই বেশি। সম্ভাব্য ও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলো থেকে গ্যাসের মজুত সূচক যে বার্তা দিচ্ছে, তা মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়। এমনকি ঘরে ঘরে রান্নার গ্যাসেও সংকট। অতি সম্প্রতি সংবাদপত্রের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘রাজধানীজুড়ে পাইপলাইনের গ্যাসে স্বল্প চাপ। দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় আগুন জ্বলে না। কোথাও কোথাও অল্প আঁচে টিমটিম করে আগুন দেখা গেলেও রান্না করতে সময় লাগছে দ্বিগুণ। এ পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার এলপিজির দিকে ঝুঁকছে। সেখানেও দেখা দিয়েছে সংকট। সিলিন্ডার মিলছে না। মিললেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি গুনতে হচ্ছে। এলপিজির সংকট শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ নেই। দেশজুড়ে ভোগাচ্ছে রান্নার জন্য জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই গ্যাস’ (সমকাল, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬)।
এদিকে কয়লা উত্তোলনের প্রচেষ্টা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্ভব হয়নি, এমনকি অতি তাড়াতাড়ি হবে বলেও মনে হয় না। এ নিমিত্তে অতিরিক্ত সময় চেয়ে নিতে পারে নতুন সরকার। তবে শুধু কয়লার ভরসায়ও দেশের জ্বালানি ক্ষুধা মেটানো যাবে না। তাই দৃষ্টি রাখতে হবে অন্যান্য বিকল্প উৎসের প্রতি। সে উদ্দেশ্যে এলএনজি টার্মিনাল ও গ্রিড নির্মাণে হাত লাগাতে হবে যত দ্রুত সম্ভব। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের পরিবর্তে উদ্যোগগুলো স্থানীয় ও বিদেশি যৌথ বিনিয়োগেও সম্পন্ন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াকৃত গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা হতে হবে গতিশীল; কোম্পানির কাছ থেকে গ্যাস ক্রয়ের বেলায় গ্যারান্টিও থাকতে হবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বছরের জন্য। গ্রিড নির্মাণ ও বিক্রয় পয়েন্টে গ্যাস নেওয়ার মূল দায়িত্ব সরকারের। জ্বালানি ব্যবস্থাপনার স্বার্থে মোটরযানে কম্প্রেস্ড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) সরবরাহও বন্ধ করতে হবে দ্রুত। বাড়াতে হবে গৃহস্থালিতে লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারকারীর সংখ্যা; অতিপ্রয়োজনীয় শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্ব বুঝে কিছু শিল্পে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ থেকেও সরে আসা যেতে পারে।
গত কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সেবা মিলছে মোটামুটি। তবে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনএমসিটি) পুরোপুরি কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়নি এখনও। বন্দর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল তার অবস্থাও তথৈবচ। যদিও ইতোমধ্যে লালদিয়া ও পানগাঁও নিয়ে বেশ কিছু ভবিষ্যৎমুখী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যে হারে আমাদের বহির্বাণিজ্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে বর্তমান সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে চট্টগ্রাম বন্দর প্রবল চাপের মুখে পড়বে। আবার আঞ্চলিক সংযুক্তি ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে যুক্ত হওয়ার মতো ইস্যুগুলো যে অবস্থায় পড়ে রয়েছে, সে ক্ষেত্রে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ স্বস্তিদায়ক সমাধান বলে প্রমাণিত নাও হতে পারে। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পর গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে আমাদের প্রাক্কলিত মুনাফা উঠে আসার কথা। সেটি উৎসাহজনক ঠেকছে না। তাই ফোকাস রাখা দরকার চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার কয়েক গুণ পর্যন্ত উত্তরণের দিকে। পাশাপাশি কার্যকর করে তুলতে হবে মোংলা বন্দরকে। কুয়াকাটার কাছে রামনাবাদ চ্যানেলে তৃতীয় সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা যায় কিনা, তা কিছুটা যাচাই হলেও পুরো ভরসা মিলছে না। পদ্মা সেতু চালু হয়েছে, তবে আকাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বন্দরগুলো কার্যকর করাসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিকাশের ব্যাপক সুযোগ মিলবে তখন। তবে শর্ত থাকে, সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পরপর অব্যাহতভাবে ড্রেজিং করতে হবে গুরুত্বপূর্ণ নদীর চ্যানেলগুলো, যাতে এসব চ্যানেল দিয়ে কাঙ্ক্ষিত আকারের জাহাজ চলাচল করতে পারে। সমুদ্র ও নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে আসবে তাতে।
নৌপরিবহন সম্প্রসারণের মাধ্যমে অতীতের শিল্পকেন্দ্রগুলোকে পরস্পর সংযুক্ত গুচ্ছে পরিণত করার বিরাট সুযোগ পড়ে রয়েছে সামনে। সে জন্য আগামীতে সমন্বিতভাবে বড় বিনিয়োগ হওয়া দরকার ড্রেজিংয়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-মোংলা, ঢাকা-কুয়াকাটা নৌপথে পণ্য পরিবহন বাড়ার সুফল অর্থনীতিতে কী মাত্রায় পড়বে, তা তো সহজেই অনুমেয়। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগে (স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগে হতে পারে) বন্দর নির্মাণের প্রচেষ্টাও এগিয়ে নিতে হবে। নৌপথের ব্যবহার বাড়াতে গিয়ে আবার সড়কপথকে অবহেলা করলে চলবে না। তাই আঞ্চলিক ও আন্তঃনগর সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করা জরুরি। এসবের সঙ্গে চট্টগ্রামে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) দ্রুত চালুর পথে সব প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। এটি গোটা চট্টগ্রাম অঞ্চলেই বিবর্ধিত প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শুনলে অনেকে নাক সিটকান। কেউ কেউ জোর দাবিও জানান, শিক্ষা ব্যবসায়ী এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রদানের সময় মঞ্জুরি কমিশন যেন শতবার ভেবে নেয়। এগুলোর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ না খণ্ডিয়েও বলা যায়, অমুক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এত সংখ্যক স্নাতক বেকার রয়েছে– এমন কথা আমি শুনিনি; তার কারণ যাই হোক। অথচ কিছু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রগতিই বিঘ্নিত করছে উদ্দেশ্যহীন আদর্শ। ‘বাজারমুখী’ নামের বাস্তবতাকে অনেক ক্ষেত্রে সহজ করতে পারছে না এরা। প্রশ্ন হলো, আদর্শ ও বাস্তবতার সমন্বয় ঘটানো কি এতই কঠিন? স্থানীয় বেসরকারি খাত দ্রুত বাড়ছে। ওষুধ শিল্প ও রাসায়নিক কারখানা এবং বৈশ্বিক আউটসোর্সিংয়েও সুযোগ প্রসারিত হচ্ছে আমাদের শ্রমবাজারে। অথচ ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত স্নাতক ডিগ্রিধারী নেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জ্ঞানে দক্ষ লোকবলের অভাবও প্রকট। এখন মীমাংসা হওয়া দরকার– স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কি এখানে আমন্ত্রণ জানাব আমরা? নাকি মেধা পাচার ও অপচয় হতে দেব? বিদেশি কোনো অনুষদ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যক্রম চালুর অনুমতি পাবে? নাকি তথাকথিত আদর্শ ধারণ করে এগুলো গতিহীন থেকে যাবে?
ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা সরকারের ওপর তুলনামূলক বাড়তি চাপ ফেলবে জনস্বাস্থ্য অবকাঠামোর উন্নয়ন। এ খাতে প্রচুর বেসরকারি বিনিয়োগ হয়েছে এরই মধ্যে। তা নিয়ে বলার কিছু নেই বরং সেটি ইতিবাচক। কিন্তু এখানে দূরদর্শী নিয়ন্ত্রক সংস্থা না থাকলে তা জনকল্যাণে সহায়তাকারী হওয়ার পরিবর্তে উল্টো সিন্দাবাদের ভূত হয়ে জনগণের ঘাড়ে চাপতে পারে। গ্রামীণ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এখনও তেমন আগ্রহী দেখা যাচ্ছে না তাদের। এভাবে তৈলাক্ত চর্ব-চোষ্য খেয়ে এবং কোনো সামাজিক দায়িত্ব পালন না করে সেগুলো বেড়ে উঠলে তো মহাবিপদ।
আসলে কেবল জনস্বাস্থ্য নয়, সুষ্ঠু বিকাশ নিশ্চিত করতে পুরো বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণ কাঠামোতেই সংস্কার আনা দরকার। সে জন্য খানিকটা ফুরসত বের করে নিয়ে প্রবৃদ্ধি সহায়ক আইন প্রণয়নে মনোযোগ দিতে হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কেই। কাণ্ডজ্ঞান কী বলে? ৫৪ বছর আগে স্বাধীনতা অর্জন করা একটি সম্ভাবনাময় দেশের অর্থনীতি প্রায় ৮০ বছর আগে প্রণীত বৈদেশিক বিনিময় নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৪৭-এর মতো অপ্রয়োজনীয় ও প্রতিবন্ধক আইন দ্বারা ভালোভাবে চলতে পারে? খোঁড়া ও অবুঝ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ নিয়ে কোনো খাতের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব? একটি গ্রহণযোগ্য ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা ছাড়া কীভাবে স্থানীয় উদ্যোক্তারা ব্যবসা করবেন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে?
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অসামান্য সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশের কৃষি খাত। ধান উৎপাদনে অনেক দিন থেকেই প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ আমরা। প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও বিত্তবান শ্রেণির জন্য বিশেষ কিছু জাত ছাড়া এখানে চাল আমদানিও খুব একটা হচ্ছে না ইদানীং। তবে ধান-চাল উৎপাদনে অর্জন টেকসই করতে এমন জাতের ধান গবেষণায় দৃষ্টি দিতে হবে, যেটি ভূগর্ভস্থ পানি কম ব্যবহার করে। অবহেলা দেখানো যাবে না কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে উপযুক্ত মূল্য ব্যবস্থা প্রণয়নের বেলায়। আগামী সরকার চাল রপ্তানির ভাবনা তখনই ভালোভাবে মাথায় আনতে পারবে যখন অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের চাহিদা কমে যাবে। তবে চাহিদা বেড়ে গেলে অবারিত রাখতে হবে আমদানির সুযোগ। পাশাপাশি খাদ্যপণ্য গুদামজাতকরণের সুবিধা বাড়াতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক মূল্য ব্যবস্থার প্রচলন করতে হবে ভোক্তাস্বার্থ ও প্রকৃত উৎপাদক তথা কৃষককে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেও।
যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই আসুন, নতুন সরকারের এক বড় চ্যালেঞ্জ হবে– কোন উপায়ে অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সামলাবে তারা। তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক দরকার আছে কিনা বা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মতো অর্ধক্ষম প্রতিষ্ঠান নিয়ে আমরা কী করব। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) দক্ষতা নিরীক্ষা করা হবে কী উপায়ে? পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডে (পিডিবি) সুশাসন কায়েম করা যায় কীভাবে? এরই মধ্যে ছায়া অর্থনীতির লক্ষণীয় বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে। এর আকার হ্রাসের মধ্য দিয়ে নতুনভাবে রাজস্ব বৃদ্ধির পরিকল্পনাও থাকতে হবে আগামী সরকারের।
অব্যবহৃত অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিকাশ ও বিদ্যমান বাস্তবতার সুব্যবস্থাপনায় মনোযোগ দিতে হবে নতুন সরকারকে। এ জন্য এমন রাজনৈতিক দল দরকার, দৃষ্টি যাদের সামনে। একই সঙ্গে থাকতে হবে দায়িত্বশীল ও সক্রিয় বিরোধী দল, যারা সমৃদ্ধির পথে অগ্রযাত্রায় গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সহযোগিতা জুগিয়ে যাবে সরকারকে। দরকার এমন এক কার্যকর বিচার বিভাগ, দুর্নীতির প্রশ্নে কোনো ছাড় না দিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন যারা। নতুন সরকারকে আরও সমন্বয় করে চলতে হবে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে। এতে বেসরকারি খাতের বড় প্রকল্প যেমন বন্দর, সেতু, টোল পথ, বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি প্লান্ট, শোধনাগার, বিমানবন্দর, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল প্রভৃতি নির্মাণ সহজ হবে।
মামুন রশীদ: অর্থনীতি বিশ্লেষক
এএ
মামুন রশীদ